শ্বাসরুদ্ধকর সাড়ে তিন ঘন্টা: প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে না দেয়ায় টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা!

মানবকণ্ঠ
ছবি - প্রতিবেদক

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ৩১ মার্চ ২০২০, ১৬:৪৮,  আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২০, ১৬:৫৩

বরগুনার আমতলীতে পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় বাবা-মায়ের সাথে অভিমান করে মোবাইল টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন আবদুল্লাহ আল মীম নামের এক কলেজছাত্র। মীমের আত্মহত্যা চেষ্টার এ দৃশ্য দেখলো লক্ষাধীক মানুষ। আমতলী পৌর মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমানের উদ্যোগে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সাড়ে তিন ঘন্টা শ্বাসরুদ্ধকর প্রচেষ্টায় আত্মহত্যা থেকে বেঁচে গেল মীম। ঘটনা ঘটেছে আমতলী পৌর শহরের ফায়ার সার্ভিস এলাকায় এয়ারটেল কোস্পানীর মোবাইল টাওয়ারে সোমবার রাতে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, আমতলী পৌর শহরের সদর রোডের ফল ব্যবসায়ী বাহাদুর জোমাদ্দারের ছেলে আবদুল্লাহ আল মীম আমতলী সরকারি কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থী। ওই ছাত্রের সাথে আমতলী আইডিয়াল স্কুলের এক ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক হয়। পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করবে বলে বাবা-মাকে চাপ দেয় মীম। কিন্ত তারা ওই স্কুলছাত্রীর সাথে মীমের বিয়ে দিতে রাজি না।

এ ঘটনা নিয়ে সোমবার দুপুরে ছেলে আবদুল্লাহ আল মীম এবং বাবা বাহাদুর জোমাদ্দার ও মা লাইলি বেগমের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বাসার আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং বাবাকে লাঞ্ছিত করে বাসা থেকে বের হয়ে যায় মীম। বিকেল চারটার দিকে আমতলী পৌরসভার গাড়ি চালক মোঃ মনির হোসেন দেখতে পায় মীম আমতলী ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন এয়ারটেল কোম্পানীর ৩শ’ ফুট উচু টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা করছে। তাৎক্ষণিক মনির তাকে আত্মহত্যার হাত থেকে রক্ষায় আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমানকে জানায়। পৌর মেয়র দ্রুত পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের খবর দেন।

পরে হ্যান্ডমাইকে মেয়র মীমকে পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আত্মহত্যা থেকে নিবৃত করেন। মীমের মোবাইল টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টার খবর শুনে হাজার হাজার উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে ভিড় করে। পুলিশ প্রশাসনকে সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হিমসিম খেতে হয়।

এদিকে মীমের মোবাইল টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টার দৃশ্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। ওই দৃশ্য দেখে লক্ষাধীক মানুষের মধ্যে উৎকন্ঠায় বেড়ে যায় এবং মীমের স্বজনদের আহাজারীতে টাওয়ার এলাকা ভারী হয়ে উঠে। আমতলী ও পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের শ্বাসরুদ্ধকর সাড়ে তিন ঘন্টা প্রচেষ্টার পর রাত সাড়ে সাতটায় মীমকে টাওয়ার থেকে নিচে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়। মীমকে উদ্ধার করে দমকল বাহিনীর লোকজন আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মীম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আমতলী পৌরসভার গাড়ী চালক মোঃ মনির হোসেন বলেন, বাসা থেকে ফেরার পথে মীমকে মোবাইল টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে দেখে পৌর মেয়রকে খবর দেই। তিনি এসে মীমকে উদ্ধারের সকল চেষ্টা করেছেন।

আব্দুল্লাহ আল মীমের বাবা বাহাদুর জোমাদ্দার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মীম তার পছন্দের মেয়েকে বিয়ে করবে বলে ওর মাকে জানায়। ওর মা এতে রাজি না হওয়ার বাসায় ভাঙচুর এবং আমাকে লাঞ্ছিত করেছে। পরে মোবাইল টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।

আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত ষ্টেশন ম্যানেজার মোঃ শাহাদৎ হোসেন বলেন, প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা শ্বাসরুদ্ধকর প্রচেষ্টার পরে আবদুল্লাহ আল মীমকে উদ্ধার করেছি। তিনি আরো বলেন, মীম টাওয়ারের উপরে উঠে হতভম্ব হয়ে যায়।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মোঃ ইমদাদুল হক চৌধুরী বলেন, মীমের যথাযথ চিকিৎসা চলছে। মীম আশঙ্কামুক্ত।

আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, আবদুল্লাহ আল মীম মোবাইল টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যার চেষ্টার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই। পরে পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর লোকজনকে খবর দেই। বিভিন্ন আশ্বাস দিয়ে মাইকের মাধ্যমে মীমকে আত্মহত্যা থেকে বিরত করি। আল্লাহর অশেষ রহমতে পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর কর্মীদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় তাকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।

আমতলী থানার ওসি মোঃ শাহ আলম বলেন, সোমবার দুপুরে মীমের বাবা মুঠোফোনে জানান তার ছেলে মীম ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করছে। পরে খবর পেয়েছি ওই ছেলে মোবাইল টাওয়ারের উঠে আত্মহত্যার চেষ্টা করছে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছি। তিনি আরো বলেন, ওই ছেলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মাআনবকণ্ঠ/এইচকে/নুরুজ্জামান






ads