বেনাপোলে অনুদানের অভাবে বিপাকে ২০ হাজার পরিবার

বেনাপোলে অনুদানের অভাবে বিপাকে ২০ হাজার পরিবার - প্রতিবেদক

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ৩০ মার্চ ২০২০, ১০:৫৬

সারাবিশ্বে বিরাজমান প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আতঙ্কে সরকারীভাবে সব ধরনের জনসমাগম নিষেধ করা হয়েছে। এরপরেই সরকারি প্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, ব্যাংক, শিল্প কারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ছোট-বড় দোকান বন্ধ ঘোষণা করে স্থানীয় প্রশাসন।

জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে যাচ্ছে না। সরকারী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার ফলে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলের বন্দর ব্যবহার বিভিন্ন সংগঠনের প্রায় ২০হাজার কর্মজীবী মানুষের পরিবারে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। অতিদ্রুত বন্দর এলাকায় পর্যাপ্ত সরকারী সাহায্যে না এলে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে মনে এলাকার মানবাধিকার কর্মীরা।

নাম প্রকাশনা করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শার্শা উপজেলায় প্রায় ৫লক্ষাধিক মানুষের বসবাস সেখানে সরকারী ভাবে মাত্র ১ হাজার জন মানুষ আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। সমাজের বৃহৎ একটি অংশ সরকারের আর্থিক সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছে। তারা আর্থিক সহয়তার পরিধি বাড়ানোর জন্য দাবি জানিয়েছেন।

শহরের ব্যস্ততম রাস্তাগুলি এখন ফাঁকা। রাস্তাঘাটে মানুষের আনাগোনা নেই বললেই চলে। করোনা আতঙ্কে নিম্ন আয়ের দিন মজুর আর খেটে খাওয়া মানুষরা পড়েছেন মহাবিপাকে। আয় রোজগারের কোনো উপায় না থাকায় পেটের দায়ে তারা ঘরে থাকতেও পারছেন না। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেনে ভ্যান অথবা রিকশা নিয়ে। কেউ বা কোদাল ও ঝুড়ি নিয়ে রাস্তার পাশে অপেক্ষা করছেন কাজ পাওয়ার আশায়। আবার কেউ বা এলোমেলো ঘোরাফেরা করছেন দিনমজুরের কাজের জন্য।

রোববার সকালে বেনাপোলের দুর্গাপুর মোড়ে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন ইজিবাইক চালক মতিয়ার রহমান। বেনাপোলের ছোট আঁচড়া গ্রামের সাত সদস্যের পরিবারে একাকী কর্মক্ষম ব্যক্তি তিনি।

তিনি জানান, প্রতিদিন পরিবারে খাওয়া খরচ বাবদ ৪শ টাকা খরচ হয়। গ্রামের একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বাইক কিনেছি। প্রতি সপ্তাহে কিস্তি দিতে হয় ৪ হাজার টাকা। এর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১হাজার টাকার ভাড়া পেতাম। এই কয়েক দিনে রাস্তা ঘাটে মানুষ নেই। কামাই-রোজগার কমে গেছে অর্ধেকে। কিন্তু খরচ আগের মতোই।

শার্শা উপজেলার নির্বাহী অফিসার পূলক কুমার মণ্ডল জানান, সরকারী ভাবে ১ হাজার জন দুস্থ অসহায় মানুষের জন্য অনুদান পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নিকট সরকারী অনুদান হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা উপজেলা প্রশাসন থেকে কঠোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

মানবকণ্ঠ/এআইএস

 






ads
ads