করোনা ভাইরাস : লকডাউনের মতো নীরব আনোয়ারা

মো. ইমরান হোসাইন, আনোয়ারা

করোনা ভাইরাস : লকডাউনের মতো নীরব আনোয়ারা
করোনা ভাইরাস : লকডাউনের মতো নীরব আনোয়ারা - প্রতিবেদক

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২৬ মার্চ ২০২০, ২২:১৫,  আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২০, ২৩:২৮

সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রভাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারা অনেকটাই লকডাউনে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের প্রচার ও তৎপরতায় মানুষ অনেকটা সতর্কাবস্থানে চলে যাওয়ায় সরব আনোয়ারা এখন নীরব। বাঁশখালী, পেকুয়া, চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার যাত্রীদের আনোয়ারার পিএবি সড়ক দিয়ে চট্টগ্রাম শহরে যাতায়াত, চায়না অর্থনৈতিক জোন, বঙ্গবন্ধু টানেলের বিশাল কর্মযজ্ঞ নিয়ে হই হুল্লা, শ্রমিক কর্মচারীদের শোর-চিৎকারে সরব জনপদে পরিণত হওয়া শিল্প নগরী আনোয়ারা প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের আতংকে এখন নীরব। নেই কোনো কারখানার শব্দ, মানুষের উপস্থিত ও গাড়ীর জ্যাম। এতে অনেকটাই লকডাউনে পরিণত হয়েছে আনোয়ারা।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরা দেখা যায়, রায়পুর, বারশত, বটতলী, বৈরাগ, বারখাইন, চাতরী, বরুমচড়া ও আনোয়ারা সদরের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ আতংকে ঘর থেকেই বের হচ্ছেনা। বিশেষ করে প্রবীণদের দেখাই যাচ্ছেনা কোথাও। হাট-বাজার গুলোও এক ধরণের লকডাউনের মতো হয়ে পড়েছে। তরকারি, ঔষধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় কিছু দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতা সংখ্যা ছিল খুবই কম। আনোয়ারার ব্যস্ততম এলাকা চাতরী চৌমুহনী বাজারে কয়েকজন নিজ বাড়ি যাওয়ার জন্য গাড়ির অপেক্ষা করলেও কয়েকটি রিকশা ছাড়া কোন যানবাহন সড়কে দেখা যায়নি।

চাতরী চৌমুহনী বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী আলী হায়দার দিদার বলেন, অন্যান্য সময় চেম্বারে ডাক্তার বসলে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেচাকেনা হলেও আজ ২ থেকে ৩ হাজার টাকার ওষুধ বিক্রয় হয়। সকালে ডাক্তার চেম্বারে আসলেও রোগী ছিল মাত্র ৮ জন।

এদিকে আনোয়ারায় সেনা বাহিনী টহল তেমন দেখা না গেলেও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমদ, সহকারি কমিশনার (ভূমি) তানভীর আহমদ চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ নিয়মিত অভিযান ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে লোকজন অনেকটা সতর্কমূলক অবস্থানে চলে যায়। জনসমাগম ঠেকাতে বুধবার উপজেলার হাট-বাজার গুলো বন্ধ ঘোষণা করে। উপজেলায় খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম, বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের বাড়ি-বাড়ি টাঙ্গিয়ে দেয়া হচ্ছে লাল পতাকা, চার দিন ধরে চলছে পুলিশের মাইকিং সেই সাথে করছেন লিফলেট বিতরণ। সব মিলিয়ে আনোয়ারা অনেকটা স্ব- ঘোষিত লকডাউনে পরিণত হয়।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ বলেন, জনগণের নিরাপত্তায় পুলিশ সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে। জনসমাগম যেন ঘটতে না পারে তার জন্য পুলিশ বিভিন্ন হাট-বাজার এলাকায় অবস্থান করবে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, করোনা প্রতিরোধে ৮ সদস্যের কমিটি করা হয়। যে কোন মুহূর্তে মানুষ যাতে যোগাযোগ করতে পারে সে জন্য উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। বিদেশ ফেরতদের তালিকা ধরে সরকারি নির্দেশনা মতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। হাট-বাজারসহ সব ধরণের জনসমাগম ঘটলেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/এআইএস

 




Loading...
ads






Loading...