'কাজে না আসলে বাড়িতে চুলো জ্বলে না'

'কাজে না আসলে বাড়িতে চুলো জ্বলে না'

poisha bazar

  • ২৬ মার্চ ২০২০, ২১:৪৫

রাজীব আহম্মেদ রাজু, গোপালগঞ্জ: ‌'কাজে না আসলে বাড়িতে চুলো জ্বলে না, ছেলে-মেয়ে না খেয়ে থাকে, তাই চালাতে কাজে এসেছি। করোনার ব্যাপারে আমরা জানি। এই রোগে মানুষ মারা যায় তাও জানি। একজনের হলে অন্যজনের মধ্যে ছড়ায় তাও জানি, তারপরও আমাদেরকে কাজে আসতে হয়েছে। আমরা কাজে না আসলে না খেয়ে থাকবো, কেউ আমাদের বাড়িতে গিয়ে খাবার দিয়ে আসবে না। তাছাড়া আমরা যেসব লোকের জমিতে কাজ করি, এই সময়ে কাজ না করলে সেসব জমির ফসলও নষ্ট হয়ে যাবে। তাই ফসলের কথা চিন্তা করে এবং নিজেদের বেঁচে থাকার জন্যই আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজে বেড়িয়েছি। এভাবেই বলছিলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার করপাড়া গ্রামের বিলে চিনাবাদামের জমিতে কাজ করতে আসা দিনমজুর সঞ্জিত সরকার।

দিনমজুর সঞ্জিত সরকারই নয়, ওই এলাকায় কাজ করতে আসা দিনমজুর রেনুকা সরকার, ভানু কির্ত্তনীয়া, শীলা দত্ত, দাউদ মোল্লা, নাছি খানম, মমতাজ বেগমসহ আরো অনেকে একই কথা বললেন।

তাদের বক্তব্য, করোনা সম্পর্কে তারা জেনেছে। আর দশজনের কাছেও শুনেছে, চারিদিকের পরিবেশ সম্পর্কেও তারা জানেন, কিন্তু তাদের করার কিছুই নাই। পেটে মানে না, জন বিক্রি না করলে বাড়িতে হাড়ি জ্বলবে না, না খেয়ে মরতে হবে এজন্যই তারা কাজে বেড়িয়েছে। তাছাড়া তারা বছরব্যাপী যেসব মহাজনের জমিতে জন বিক্রি করে খায়, তাদের ফসল নষ্ট হচ্ছে, পরিষ্কার না করলে ফসল হবে না সেটাও তদের দেখার দরকার আছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ওই এলাকায় অন্তত দুই শতাধিক দিনমজুরকে দেখা যায় কাজ করতে। তারা একে অন্যের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। বছরের অন্য সময়ের মতোই স্বাভাবিকভাবে চলছে তাদের জীবনযাত্রা। শুধু করপাড়ার এই বিলেই নয় জেলার সকল বিল এলাকায় দিনমজুররা কাজে ব্যস্ত। কোনো আতঙ্ক ছাড়াই কোনোরুপ সচেতনতা ছাড়াই চলছে এইসব লোকের জীবনযাপন।

মরণঘাতি ভাইরাস করোনা থেকে বাঁচতে সব শ্রেণি পেশার লোকজনকে ঘরে থাকার সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করেছে সরকার। করোনা প্রতিরোধে যেসব নির্দেশনা মেনে চলা উচিৎ তা কেবল মাত্র শহর বা বড় বড় বাজারগুলোতে মানতে দেখা গেলেও গ্রামে কিন্তু এর প্রভাব পড়েনি। সচেতনার অভাব, আর্থিক অনটন, কোথাও কোথাও ধর্মীয় গোড়ামী ও অন্যান্য নানা কারণে গ্রামাঞ্চলে এসব নিয়মকানুনের বালাই খুব একটা চোখে পড়ে না। আড়ালে আবডালে বসে আড্ডা দেয়া, চায়ের দোকানে চা বিক্রিসহ আগের মতো সব কিছুই স্বাভাবিক গতিতে চলছে গ্রামাঞ্চলে। করোনা যদি গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে তা মহামারি আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা জনগণকে সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরামর্শ দিচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, সদস্য, ইউপি মহল্লাদাররাও গ্রামাঞ্চলে কাজ করে যাচ্ছে। তারপরও পুরোপুরি আমরা মানুষকে ঘরে রাখতে পারছি এমনটি নয়। তবে বৃহস্পতিবার থেকে সেনাবাহিনীও পুরোপুরি মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি যার যার অবস্থান থেকে মানুষকে সচেতন করার কাজ করার অনুরোধ জানান। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে পারি বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মানবকণ্ঠ/আরবি





ads







Loading...