করোনা : ফাঁকা নারায়ণগঞ্জ, প্রস্তুত হাসপাতাল

মানবকণ্ঠ
ছবি - প্রতিবেদক

poisha bazar

  • মানবকণ্ঠ প্রতিনিধি
  • ২৬ মার্চ ২০২০, ২০:০৫

সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও পড়েছে করোনা ভাইরাসের প্রভাব। করোনা সংক্রমণ রোধে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সব ধরনের দোকানপাট ও গণপরিবহণ। একই সঙ্গে ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে প্রশাসন থেকে। এদিকে জনসমাগম রোধে মাঠে নেমেছে র‌্যাব, সেনাবাহিনী, পুলিশ। নিয়মিত টহলের মাধ্যমে দোকানপাট ও জনসমাগম বন্ধে কাজ করে যাচ্ছে তারা। ফলে খাবার ও ওষুধের দোকান ছাড়া বন্ধ রয়েছে সব কিছু। নগরীর ফুটপাত সম্পূর্ণ ফাঁকা। শহরে নেই মানুষের আনাগোনা। ব্যস্ততম এই শহর যেন স্তব্ধ নগরীতে হয়ে আছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, পুরো শহর যেন জনশূন্য। শহরের প্রধান সড়ক বঙ্গবন্ধু সড়কে প্রতিদিনের মতো সেই ব্যস্ততা আর নেই। নেই চিরচেনা সেই যানজটের চিত্র। সম্পূর্ণ ফাঁকা সড়কটিতে চলাচল করতে হাতেগোনা কয়েকটি রিকশা। একই সঙ্গে সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন সকল চায়ের দোকান। নিত্যদিনের কোলাহল বিহীন চাষাঢ়া বালুর মাঠ এলাকা সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে আছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জে বন্ধ রয়েছে সকল গণপরিবহন।

শহরের ১নং রেলগেট সংলগ্ন প্রধান বাস টার্মিনালে দেখা যায় সারিসারি বাস। টিকেট কাউন্টারে নেই কেউ। বাসের অপেক্ষায়ও কোনো যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেয়া যায়নি। রেল স্টেশনে কিছু সংখ্যক ছিন্নমূল মানুষের দেখা মিললেও দেখা যায়নি কোনো যাত্রীর। এদিকে সকালে শহরে টহল দিয়েছে সেনা সদস্যরা। এ সময় শহরে থাকা মানুষদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেন তারা। একই সঙ্গে ওষুধ, খাবার দোকান, কাচাবাজার ছাড়া সকল দোকানপাট বন্ধ রাখতে বলেন। সেনাবাহিনীর মতই শহরে টহল দিতে দেখা যায় র‌্যাব সদস্যদের। সেনা সদস্যদের ন্যায় তারাও সকলকে বাড়িতে অবস্থান করার নির্দেশনা দেন।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে অভিযান চালিয়ে কয়েকজন যুবককে কান ধরে উঠ-বস করার শাস্তি প্রদান করে পুলিশ। করোনা ভাইরাস আতঙ্কে জনসমাগম এড়ানোর অংশ হিসেবে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ শাস্তি প্রদান করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে লিংক রোডের চানমারী এলাকার স্বপ্নডানার পাশে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় সড়ক দিয়ে যাতায়াত করা প্রায় ১০/১২ জনকে এ ধরনের শাস্তি প্রদান করা হয়। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় মাস্ক ব্যবহার না করায় এবং অহেতুক ঘোরাঘুরির কারণে এ শাস্তি দেওয়া হয়। এসময় সড়ক দিয়ে যেসব ব্যক্তিদের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে দেখা গেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে জেলা সিভিল সার্জন করোনার সর্বশেষ তথ্যে জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ জেলায় হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন মোট ২৩৬ জন। তাদের মধ্যে বিদেশ ফেরত ২২৩ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানান, হোম কোয়ারেইন্টানে থাকা ২৩৬ জনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আছেন ১৯ জন, সদর উপজেলায় ৯১ জন, বন্দর উপজেলায় ২২ জন, আড়াইহাজার উপজেলায় ৪০ জন, সোনারগাঁ উপজেলায় ৩৮ জন এবং রূপগঞ্জ উপজেলায় আছেন ২৬ জন। তবে করোনা ভাইরাসে নারায়ণগঞ্জে নতুন কেউ আক্রন্ত নেই। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে বর্তমানে কেউ নেই।

অপর দিকে বিকেল ৪টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে সাংবাদিকেদের জানানো হয়, গত ২৪ ঘন্টায় ৪৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কন্ট্রোল রুমের দায়িত্ব থাকা জেলা তথ্য কর্মকর্তা সিরাজউদ্দৌল্লা খান জানান, নতুন করে কেউ করোনার ভাইরাসে আক্রান্ত হননি। গত ১ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন ৫ হাজার ৯’শ ৬৮ জন। এরমধ্যে মাত্র ২৮০ জনের ঠিকানা ও অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। নতুন করে চিহ্নিত হওয়া ৪৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারী ৬টি হাসপাতালে সেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ৩০টি বেড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ৯০ জন ডাক্তার ও ১৭৩ জন নার্স করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে। রোগীদের আনা নেওয়ার জন্য ৬টি এ্যাম্বুলেন্স সচল রয়েছে। এছাড়া বেসরকারী ৭২টি চিকিৎসা কেন্দেক্রে ৭২টি বেড প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ১’শ ডাক্তার ও ১৮০ জন নার্স রোগীদের সেবা দিবেন।

মানবকণ্ঠ/জেএস/নাহিদ




Loading...
ads






Loading...