খুলনায় করোনা সন্দেহভাজন রোগীর মৃত্যু, ২০ নার্স-চিকিৎসক কোয়ারেন্টাইনে


poisha bazar

  • আলমগীর হান্নান, খুলনা ব্যুরো
  • ২৬ মার্চ ২০২০, ১৭:২৮,  আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২০, ১৭:৩২

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহভাজন এক রোগী আজ বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টায় মারা গেছেন। তথ্য গোপন করে ভর্তি হওয়া ওই রোগীর কারণে ২০ জনের বেশি চিকিৎসক নার্সকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে। হাসপাতাল জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।

মারা যাওয়া মোস্তাহিদুরের (৪৫) বাড়ি নগরীর হেলাতলা এলাকায়। ওই রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া ১৫/২০ জন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হচ্ছে। হাসপাতালের পরিচালক বলছেন, তার ৯০ শতাংশ সন্দেহ ওই রোগী করোনায় আক্রান্ত ছিলেন।

খুমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকাল পয়েন্ট ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, ঢাকার মডার্ন হাসপাতাল থেকে থাইরয়েড অপারেশন করে পোস্ট অপারেটিভ চিকিৎসার জন্য এক রোগী খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসে। বুধবার রাত আড়াইটার দিকে তাকে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে তার জ্বর ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। প্রথমে সবাই ভেবেছিল অপারেশনের কারণে হয়তো এ রকম হচ্ছে। দুপুর দেড়টার দিকে তিনি মারা যান।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. এ টি এম মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, ওই রোগীর জ্বর ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা সংক্রান্ত পূর্ববর্তী তথ্য নেন। এই হাসপাতালে আসার আগে ওই রোগী ঢাকার মডার্ন হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। একই আইসিইউতে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্ত একজন রোগী মারা গিয়েছিল। কিন্তু ওই রোগী এখানে ভর্তির সময় সেই তথ্য গোপন করেন। তা না হলে তাকে করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হতো।

তিনি জানান, তার মরদেহ হাসপাতালে পড়ে আছে। যে সকল চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মী তার সংস্পর্শে এসেছে তাদের সকলকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হবে। সেই সংখ্যা কত জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রায় ১৫/২০ জন হবে।

ডা. মোর্শেদ জানান, ওই রোগীকে মডার্ন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলেছিল। কিন্তু তিনি তা মানেননি এবং তথ্য গোপন করে এখানে ভর্তি হন। তার কারণে ঝুঁকি বেড়ে গেলো। মারা যাওয়া ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত কিনা তা পরীক্ষা করা হবে কিনা- এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে ঢাকায় আইইডিসিআরে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/জেএস





ads







Loading...