করোনা আতঙ্কে বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষেরা

করোনা আতঙ্কে বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষেরা

  • ব্যুরো অফিস, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২২ মার্চ ২০২০, ১৪:৪১

খুলনায় করোনাভাইরাস আতঙ্কে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। জরুরি কাজ ছাড়া ঘর থেকে বাইরে বের হতে চাইছেন না কেউ। খুলনায় এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে কেউ আক্রান্ত না হলেও মানুষের মধ্যে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। সেই আতঙ্কের কারণে সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দিনমজুর, ইজিবাইক, রিকশাচালক, ফুটপাথের দোকানি আর ছোটখাটো হোটেল মালিকরা।

রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র ও সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা ডাকবাংলো ও পিকচার প্যালেস মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য দিনের তুলনায় লোকসংখ্যা খুবই কম। প্রায় একই চিত্র নগরীর রয়্যাল মোড়, সাতরাস্তা মোড়, ফেরিঘাট মোড়, ময়লাপোতা মোড়, শিববাড়ী মোড়, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল, গল্লামারী, দৌলতপুর কলেজ মোড়, মুহসীন মোড় ও রেলিগেট মোড় এলাকা।

তবে, নগরীর বড়বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়ের জন্য মানুষের ভিড় ছিল প্রায় স্বাভাবিক।

নগরীর সাতরাস্তা মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, বাসকাউন্টারগুলো যাত্রীশূন্য। সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের বুকিং ম্যানেজার ইসমাইল হোসেন জানান, খুলনা থেকে ঢাকায় যাত্রীর সংখ্যা কমে গেছে। যেখানে ৪০ থেকে ৪৫ জন যাত্রী নিয়ে একটা বাস ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে, সেখানে বর্তমানে ২৫ জনও হতে চাইছে না। তবে, ঢাকা থেকে প্রায় সব বাসেই ৪২ জন থেকে ৪৫ জন যাত্রী আসছে। যা নির্ধারিত সিটের চেয়ে দুইজন থেকে পাঁচজন বেশি। তারা অনেকেই করোনা আতঙ্কের কারণে চলে আসছেন বলে জানান।

ঈগল পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার শেখ জাহাঙ্গীর হোসেনও জানান একই কথা। তিনি বলেন, এমন অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।

সাতরাস্তা মোড় এলাকার রিকশাচালক শহিদুল ইসলাম জানান, রাতে অনেক যাত্রী আসে। রিকশায় তারা তাদের মূল গন্তব্যে যায়। কিন্তু এখন যাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় তাদের আয় কমে গেছে। যাত্রী একজন হলে রিকশা হয় ৪-৫টি।

ইজিবাইকচালক নাসিম, হেলাল, রাজন, সফিউলরা জানান, তাদেরও যাত্রী অনেক কমে গেছে। যারা ভাড়ার গাড়ি চালায় তাদের ভাড়া উঠাতেই দম বের হয়ে যাচ্ছে। যাত্রীরা হেটে পথ পাড়ি দিলেও এখন আর গণপরিবহনে উঠতে চাইছে না আতঙ্কের কারণে।

নগরীর পিকচার প্যালেস মোড় এলাকার ফুটপাতের ব্যবসায়ী নাজিম ও ইলিয়াস বলেন, বেচাকেনা এতো কমে গেছে যে, জায়গার ভাড়াও এখন উঠছে না। ফুটপাতের কোনো কিছু এখন আর মানুষ কিনতে চাইছেন না। আগে যেখানে প্রতিদিন ৫-৭শ’ টাকা লাভ নিয়ে ঘরে যাওয়া যেতো এখন তা ২-১শ’তে নেমে গেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই এমন পরিস্থিতি চলছে বলে জানান তারা।

মানবকণ্ঠ/আরবি



poisha bazar

ads
ads