তাড়াশে গেট ভেঙে নিহত ৪ : তদন্ত কমিটি, মামলা দায়ের

তাড়াশে গেট ভেঙে নিহত ৪ : তদন্ত কমিটি, মামলা দায়ের
তাড়াশে গেট ভেঙে নিহত ৪ : তদন্ত কমিটি, মামলা দায়ের - প্রতিনিধি

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৯ মার্চ ২০২০, ১৬:০৮

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কলেজের নির্মাণাধীন গেট ভেঙ্গে ৪ জন নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। এদিকে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ওই কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে গুলটা বাজারে শহীদ এম মনসুর আলী ডিগ্রি কলেজের নির্মাণাধীন গেটের উপরের অংশ ভেঙ্গে গুলটা বাজার হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপর পড়ে। এতে ৪ জন নিহত হন এবং আহত হন হাটে আসা অন্তত ৫ ক্রেতা-বিক্রেতা।

এ ঘটনায় রাতেই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) চৌধুরী মো. গোলাম রাব্বীকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইফফাত জাহান ও উপজেলা প্রকৌশলী বাবলু মিয়া।

জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মেদ বলেন, আগামী ৭ থেকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে এই কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ দিকে, কলেজের অধ্যক্ষ আসাদ-উজ-জামানকে আসামী করে ওই ঘটনায় নিহত গাবরগাড়ি গ্রামের মৃত তোজাম্মেল হকের জামাতা আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। তাড়াশ থানার মাহবুবুল আলম বলেন, মঙ্গলবার রাতে নিহত ২জনের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়। তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপির ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য আশরাফুল ইসলাম জানান, কলেজের অধ্যক্ষ আসাদ-উজ-জামান সাড়ে ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এটি নির্মাণ করছেন। এ কাজে কোন ঠিকাদার নিয়োগ দেয়া হয়নি বা নকশা তৈরি করা হয়নি। অধ্যক্ষ নিজে সবকিছু করেছেন। কাজে অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে বাধা দেয়া হলেও তিনি কারও বাধা মানেননি।

এ বিষয়ে তাড়াশ ইউএনও এবং গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য ইফফাত জাহান বলেন, নিহতদের মধ্যে তাড়াশের ২জনের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে সাহায্য প্রদান করা হয়েছে।

ইউএনও আরও বলেন, অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণাধীন গেটের উপরের অংশে ৫টি দেয়ালের উপরে ১ মিটার প্রস্থ ও ২০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি ছাউনি নির্মাণ করা হয়েছিল। যা নির্মাণে কোন রড ব্যবহার হয়নি, শুধু সিমেন্ট ও বালু দিয়ে তৈরি করা ওই ছাউনির ওজনও অনেক। এ কারণেই সেটি ভেঙ্গে পড়েছে। ঘটেছে হতাহতের ঘটনা। কলেজ কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে গেটটি নির্মাণ করছিল। আমরা বিষয়টির তদন্ত করছি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

মানবকণ্ঠ/এআইএস






ads