সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে মরিয়া কলাপাড়ার 'সেই শিক্ষক'

সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে মরিয়া কলাপাড়ার 'সেই শিক্ষক'
সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে মরিয়া কলাপাড়ার 'সেই শিক্ষক' - ফাইল ছবি।

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৭ মার্চ ২০২০, ১৯:৪৮

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সপ্তম শ্রেণীর শিশু শিক্ষার্থীদের কান ধরে ওঠ বস করানো সেই কোচিংবাজ শিক্ষক মো: দেলোয়ার হোসেন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর দৌড় ঝাঁপ শুরু করেছেন।

সোমবার রাতে জাতীয় দৈনিক মানবকন্ঠ’র অনলাইন ভার্সনে সংবাদটি প্রকাশের পর তিনি দু’একজন সহকর্মীকে নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের ম্যানেজ করার মিশন নিয়ে মাঠে নামেন। কিন্তু গণমাধ্যম কর্মীদের ম্যানেজ করতে না পেরে তাঁর দম্ভোক্তি ছিল ’রিপোর্ট করে কিছুই হবেনা, প্রধান শিক্ষক সহ শিক্ষা অফিস ম্যানেজ।’

যদিও এনিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোখলেসুর রহমান বললেন, পত্রিকায় এলেও আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে জেনে আমি বলতে পারবো।’

এর আগে রবিবার (১৫মার্চ) খেপুপাড়া সরকারী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ’ক’ শাখার অংক শ্রেণী শিক্ষক মো: দেলোয়ার হোসেন তাঁর কাছে প্রাইভেট না পড়ার দরুন হোম ওয়ার্ক’র মত তুচ্ছ অজুহাত সৃষ্টি করে শিশু শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করেন। একই শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফাতিহা আক্তার জান্নাতি, জুলিয়া ফেরদৌসি তানহা, সৈয়দা মেরুনা, আনিকা তাবাসসুম নোভা, জোবায়দা জেসি, আয়শা সহ বেশ ক’জনকে পঞ্চাশ বার কান ধরে ওঠ বস করান দেলোয়ার হোসেন। এদের মধ্যে জুলিয়া ফেরদৌসি তানহা কান অপারেশনের রোগী হলেও ছাড় দেয়া হয়নি তাকে। আর আদিবা বিনা কারণে পঞ্চাশ বার কান ধরে ওঠ বস করতে রাজী না হওয়ায় তাকে বেয়াদব বলে চেঁচিয়ে ওঠেন দেলোয়ার। স্কুল শেষে ভুক্তভোগী শিশু শিক্ষার্থীরা নির্যাতনের বিষয়টি তাদের অভিভাবকদের বললে সংক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন তাঁরা। অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মৌখিক ভাবে জানানো হলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আ: রহিম গণমাধ্যমকে বলেন, কোন অভিভাবক এ বিষয়ে তাকে জানায় নি।

এদিকে সপ্তম শ্রেণীর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম নোভা’র অভিভাবক ধানখালী ডিগ্রী কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক মো: আনোয়ার হোসেন বলেন,’আমার মেয়ের কাছ থেকে শোনার পর শিক্ষক দেলোয়ারের এ নির্যাতন ও শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রূঢ় আচরণের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে বলেছি। আমি তাঁকে এও বলেছি মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে কোন শিশুর মধ্যে যদি সুইসাইডাল টেনডেনসি গ্রো করে তবে এর দায়ভার কে নেবে?’

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মো: মনিরুজ্জামান বললেন, ’শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতি মালা অনুযায়ী কোন শিক্ষার্থীকেই মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা যাবে না। এর ব্যত্যয় হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মোখলেসুর রহমান বলেন, ’পত্রিকায় এলেও আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে জেনে আমি বলতে পারবো।’

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads






Loading...