হেরে গেলেন অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়া প্রধান শিক্ষক


poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৫ মার্চ ২০২০, ১১:২৫

নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ম্যানেজিং কমিটি গঠন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির মাধ্যমে সরকারী সম্পদ আত্মসাতসহ নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে নিজেই হেরে গেলেন মাদারীপুরের চরমুগরিয়া ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকা ফারহানা আক্তার শাম্মী। প্রভাবশালী রাজনৈতিক একটি মহল, জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের যোগসাজসে তাকে 'স্টান্ড রিলিজ' করা হয়। এতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা শক্তির কণ্ঠরোধ হলো বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি মাদারীপুর পৌরসভাধীন চরমুগরিয়া ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আইয়ুব খান ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অলকা রায় কৌশলে বিদ্যালয়ের মালামালসহ অর্থ আত্মসাত করেন। যা বিদ্যালয়ের মাসিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে প্রকাশ পায়। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ফারহানা আক্তার শাম্মী প্রতিবাদ করে তার উর্ধ্বতন মহলকে জানান। যা গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়।

এছাড়া অলকা রায় অনিয়ম করে জাল স্বাক্ষরে মেয়াদ থাকার পরেও একটি ভুয়া ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে। এমন দুর্নীতি করে কমিটি গঠন ও বিদ্যালয়ের মালামালসহ অর্থ আত্মসাতকারী এসএসসি পাস ভারপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক অলকা রায়ের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং বিএডসহ মাস্টার্স ডিগ্রীধারী ওই বিদ্যালয়ের অর্থ ও মালামাল আত্মসাতের ঘটনা উদঘাটনকারী প্রধান শিক্ষককে ফারহানা আক্তার শাম্মীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। যা মাদারীপুরে সচেতন মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, অপরাধ করেও পার পেয়ে যায় দোষী শিক্ষক আর নিরাপরাধ প্রধান শিক্ষক পেলো সাজা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, সরকারী প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক পাস হতে হবে। অথচ চরমুগুরিয়া ২নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আউয়ুব খান স্নাতক ডিগ্রীধারী না হলেও তাকে সভাপতি করা হয়েছে। তাও পিছনের তারিখ দিয়ে সরকারের প্রজ্ঞাপন জারির এক মাস আগে। সেই ম্যানেজিং কমিটি গঠন ও তা অনুমোদন দিয়েছেন সদর উপজেলা ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। অথচ বর্তমানে শিক্ষা কর্মকর্তারাও নতুন করে ম্যানেজিং কমিটি করার জন্যে নির্বাচনী তফসীল ঘোষণা দেয়।

এব্যাপারে সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘নতুন কমিটির কাগজে তিনিসহ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রাশিদা বেগম কেউ স্বাক্ষর করেনি। প্রধান শিক্ষক অলকা রায় আমাদের সই জাল করে কমিটি দেখিয়েছেন। এ জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অলকা রায়কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।’

এব্যাপারে মাদারীপুরে টিআইবি’র প্রেরণায় গঠিত স্বচ্ছতার জন্যে নাগরিক (স্বজন) কমিটির সহ-সমন্বয়ক সাগর তামিম বলেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলায় প্রধান শিক্ষক ফারহানাকে পুরস্কৃত না করে বরং তাকে বদলী করা খুবই অমানবিক হয়েছে। এটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কণ্ঠরোধ করার সামিল। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।’

এব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অলকা রায় ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আইয়ুব খান সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ফাহানা আক্তার শাম্মীকে বদলী ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হয়েছে। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই।’

মানবকণ্ঠ/এইচকে/হক




Loading...
ads






Loading...