ট্রাফিক পুলিশকে চড় মারার অভিযোগে মামলা, যুবলীগ নেত্রী গ্রেফতার

ট্রাফিক পুলিশকে চড় মারার অভিযোগে মামলা, যুবলীগ নেত্রী গ্রেফতার - সংগৃহীত

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৫ মার্চ ২০২০, ০১:১০,  আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২০, ০১:২৫

গাজীপুর মহানগর যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক ও সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর রুহুন নেছা রুনাকে ট্রাফিক পুলিশকে চড় থাপ্পর মারার অভিযোগে শনিবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার নামে থানায় মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে ।

বাসন থানার ওসি একেএম কাউসার চৌধুরী জানান, শনিবার দুপুরে মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা মোড় এলাকায় জাগ্রত- চৌরঙ্গীর মূর্তির উত্তর পাশের এ ঘটনায় পাঁচটি ধারায় অভিযোগ এনে রাতে মামলা হয়েছে।

পুলিশের কাজে বাধা, পুলিশকে আঘাত, সরকারি পোশাক ছেঁড়া, পুলিশকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ এনে পুলিশ কনস্টেবল আশিকুর রহমান থানায় এ মামলা করেন। গ্রেফতারকৃত রুহুন নেছা রুনা গাজীপুর মহানগর যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলরও।

দুপুরেই ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হলেও রাতে মামলার পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তবে কাউন্সিলর রুনার সঙ্গে পুলিশের অশালীন আচরণের কথা অস্বীকার করে বাসন থানার ওসি একেএম কাউসার চৌধুরী বলেন, উনিই কর্তব্যরত পুলিশের গায়ে চড় মেড়েছেন। এরপর তাকে আটক করে থানা হেফাজতে রাখা রয়েছে।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর শাহাদৎ আলী ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানান, শনিবার দুপুরে রুহুন নেছা প্রাইভেট কার চালিয়ে চান্দনা চৌরাস্তা মোড় এলাকায় জাগ্রত- চৌরঙ্গীর মূর্তির উত্তর পাশ দিয়ে ডানে ইউটার্ন নিতে যান। সে সময় মহাসড়কে কাজ চলার কারণে ওই এলাকায় দড়ি বেঁধে ‘ রেশনিং পদ্ধতিতে’ ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের গাড়ি চলতে দেয়া হচ্ছিল। রুহুন নেছা রুনা ওই দড়ি ঠেলে তার গাড়ি ডান দিকে ইউটার্ন করানোর চেষ্টা করেন। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ কনস্টেবল আশিকুর রহমান তাকে যেতে বাধা দিলে তিনি খেপে যান। তিনি গাড়ি থেকে নেমে নিজেকে কাউন্সিলর পরিচয় দিয়ে পুলিশ কনস্টেবল আশিকুরের গালে চড় মারেন। এ পরিস্থিতি দেখে অপর কনস্টেবল মো. হাসানুর এগিয়ে গেলে তাকেও তিনি চড় মারেন। এরপর সেখানকার ট্রাফিক পুলিশ বক্স থেকে কয়েকজন পুলিশ গিয়ে রুহুন নেছা রুনাকে আটক করে বাসন থানায় খবর পাঠান। এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়।

এদিকে যুব মহিলা লীগনেত্রী ও কাউন্সিলর রুহুন নেছা বাসন থানায় আটক অবস্থায় চড় মরার ভিন্ন কারন জানিয়ে বলেন, প্রাইভেট কারে এক অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা মোড় এলাকায় ইউটার্ন নিতে যান তিনি। এ সময় পুলিশ তাকে ডান দিকে ইউটার্ন নিতে নিষেধ করে। এ সময় তিনি নিজের পরিচয় দিয়ে পুলিশকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তাকে ওই পথে যেতে দেয়নি বলে জানান রুনা। পরে ওই পথের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি দেখেন-তাকে বাধা দেয়ার ওই পথে এলামেলোভাবে অন্য গাড়ি চলাচল করছে। এ সময় তাকে বাধা দেয়ার পথটি দিয়ে অন্য গাড়ি যেতে দেয়ার কারণ জানতে চাইলে পুলিশ তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে বলে দাবি করেন কাউন্সিলর রুনা। এক পর্যায়ে পুলিশ তার ‘বুকের কাছে গিয়ে অশালীন আচরণ করে’ দাবি করে নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে ওই পুলিশ কনস্টেবলকে চড় মারেন বলে স্বীকার করেন তিনি।

বাসন থানা ওসি কাউসার চৌধুরী আরো জানান, যুব মহিলা লীগ নেত্রী ও সিটি কাউন্সিলর রুহুন নেছা রুনাকে রোববার আদালতে হাজির করা হবে।

মানবকণ্ঠ/এমএইচ






ads