শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বই বিক্রির অভিযোগ

শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বই বিক্রির অভিযোগ

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১০ মার্চ ২০২০, ১৮:৩৩

ঝালকাঠির রাজাপুরে সরকারি পাঠ্যবই বিক্রির অভিযোগে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাসার তালুকদারের বিরুদ্ধে জিডি করেছেন রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম। অবৈধভাকে সরকারি বিনামূল্যের বই বিক্রির অভিযোগে তিনি থানায় সোমবার দুপুরে জিডি করেছেন।

জানা গেছে, ৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ হাওলাদারের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মাধ্যমিক স্কুল-মাদরাসার পরিত্যক্ত সরকারি পুরাতন বই নিলাম ডেকে বিক্রয়ের একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ হাওলাদারকে সভাপতি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমডি আবুল বাসার তালুকদারকে সদস্য সচিব, রাজাপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা, রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম, রাজাপুর ফাজিল মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাকির হোসেনকে সদস্য করা হয়।

কিন্তু ওই সভার পরে কোনো মিটিং বা নিলাম ছাড়াই বই বিক্রয়ের বিষয় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমডি আবুল বাসার তালুকদার কাউকে কিছু না জানিয়ে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিদ্যালয় বন্ধের দিন সোমবার (৯ মার্চ) সকালে রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের কক্ষে রাখা বই (ঢাকা মেট্র ট- ১৬ ৯২২২) নম্বরের ট্রাকে লোড করছিল। যার মধ্যে ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের বই ছিল।

এ সময় ঘটনাটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম দেখতে পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে ২০১৯ সালের বই ট্রাকে লোড দেয়া দেখে বইসহ ট্রাকটি আটক করেন।

ট্রাকচালক মো. সুমন জানান, তাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ২০ টন বই রাজাপুর থেকে সৈয়দপুর নেয়ার জন্য ২২ হাজার টাকার চুক্তি করা হয়।

রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানান, বই বিক্রয়ের কমিটিতে আমি একজন সদস্য মাত্র। বই বিক্রয়ের প্রক্রিয়া আমি জানি না। ঘটনার সময় সোমবার সকালে আমার বিদ্যালয়ের কক্ষ থেকে বই ট্রাকে লোড করতে দেখে ইউএনও স্যারকে অবহিত করি এবং তার পরামর্শে দুপুরে থানায় সাধারণ ডায়েরি করি।

রাজাপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা জানান, সোমবার সকালে আমার বিদ্যালয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষ থেকে ২০১৯ ও ২০২০ সালের বই নেয়ার জন্য একটি ট্রাক পাঠানো হয়। কিন্তু লিখিত কোনো চিঠি না পাওয়ায় আমি বই না দিয়ে ট্রাকটি ফিরিয়ে দেই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাসার তালুকদার জানান, আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র মোতাবেক বই বিক্রয়ের প্রক্রিয়া করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ হাওলাদার জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১০৯৬ নং স্মারকে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের বই বিক্রয়ের অনুমতি পাই। তার প্রেক্ষিতে গত ৪ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল ও মাদরাসার অবিলিকৃত (পরিত্যক্ত) বই বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেই। কি পরিমান বই কত টাকায় কি প্রক্রিয়ায় বিক্রয় করতে পারি এ জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। এই কমিটি পরবর্তীতে কি সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা কমিটির অন্য কেউসহ আমি অবগত নই।

সোমবার (৯ মার্চ) সকালে শুনলাম রাজাপুর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একটি ট্রাকে বই লোড করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা পাই এবং ২০১৮ সাল পর্যন্ত বই বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত হলেও ২০১৯ সালে বই ট্রাকে পাওয়া যায়। পরে বইসহ ট্রাকটি জব্দ করি। এ ঘটনায় রাজাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বরিশাল দুর্নীতি দমন কমিশন অফিসে জানানো হয়েছে। তারা এসে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানান তিনি।

মানবকণ্ঠ/আরবি



poisha bazar

ads
ads