স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে না ট্রাক চালক ও হেলপারদের

স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে না ট্রাক চালক ও হেলপারদের
স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে না ট্রাক চালক ও হেলপারদের - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০৭ মার্চ ২০২০, ১৩:১৫

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টে ভারত থেকে আসা পাসপোর্ট যাত্রীদের করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা দায়সারাভাবে করা হলেও বেনাপোল বন্দরে পণ্যবাহী ভারতীয় ট্রাকের চালক ও হেলপারদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা মাঝে মধ্যে করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি ভারতের দিল্লিতে ৩০ জন করোনা ভাইরাস রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। এধরনের সংবাদ সোস্যাল মিডিয়াসহ দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বন্দর এলাকার মানুষ চিন্তিত হয়ে পড়েছে।

বেনাপোল বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের পর বেশি ঝুঁকিতে আছে বেনাপোল বন্দর। কেননা এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন বাংলাদেশিসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার পার্সপোট যাত্রী ও ১ হাজার থেকে ১২শ’ ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভার ও খালাসী ভারতে গমনাগমন করে থাকে। পাসপোর্ট যাত্রী, ড্রাইভার ও খালাসীদের মাধ্যমে দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

এই বন্দরে গত ১৭ জানুয়রি থেকে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করণের কাজ শুরু হয়। ১৭ জানুয়ারি থেকে ৫ মার্চ গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ পাসপোর্ট যাত্রী ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এই একই সময়ে স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল টিম ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৩ জনকে পরীক্ষা করেছে।

অপরদিকে একই সময়ে বেনাপোল বন্দরে প্রায় ৪০ হাজার ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভার ও খালাসীরা বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেছে। কিন্তু তাদের মধ্যে ১১ হাজার ৭৩১ জনকে পরীক্ষা করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ টিমের শিপ্ট ইনচার্জ ডা. শুভাশিস রায় জানান, আমরা বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে গত জানুয়ারি মাসের ১৭ তারিখ থেকে করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের জন্য ৮ জন ডাক্তারসহ ৩৬ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সারাদিন কাজ করে যাচ্ছি।

গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আমরা ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৬৯ জন বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রী, ২৬ হাজার ৩৪১ জন ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রী ও ৩২৩ জন বিভিন্ন দেশের যাত্রীদের করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করেছি। অপরদিকে একই সময়ে ভারতীয় ১১ হাজার ৭৩১ জন ড্রাইভার ও খালাসী ও ৪৫৮ জন বন্ধন ট্রেনের যাত্রীদের পরীক্ষা করা হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হতে চললেও মেরামত করা হয়নি বেনাপোল চেকপোস্টে স্থাপিত সোয়াইন ফ্লুর নির্ণয় করার থার্মাল স্ক্যানারটি। স্ক্যানার মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। স্থাপন করা হয়নি করোনা ভাইরাস রোগী শনাক্ত করণের জন্য ইনফারেন্স থার্মোমিটার ও ইলেক্ট্রনিকস অণুবীক্ষণ যন্ত্র। শুধুমাত্র পোর্টেবল লেজার ডিটেক্টর মেশিনের সাহায্যে করোনা ভাইরাস রোগী শনাক্ত করণের কাজ চলছে।

ভারত ফেরত পাসপোর্ট যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন গোটা পৃথিবী যখন করোনা ভাইরাসের জ্বরে আক্রান্ত তখন বেনাপোল চেকপোস্টে আধুনিক যন্ত্রপাতি, লোকবল বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত মাস্ক সরবরাহ করার দাবি পাসপোর্ট যাত্রীদের।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন সূত্রে জানা গেছে, এ বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার পাসপোর্ট যাত্রী ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াত করেন। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে দুইটি মেডিকেল টিম কাজ করছে সার্বক্ষণিক।

মেডিকেল টিমের সাহায্যের জন্য ৬ জন পুলিশ সদস্য তাদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া সচেতনতামূলক পরামর্শও দেয়া হচ্ছে। কিন্তু বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ পণ্যবোঝাই ট্রাক দেশে প্রবেশ করছে। যাতে চালক ও সহকারী মিলিয়ে ১ হাজার থেকে ১২শ’ মানুষ দেশে প্রবেশ করে আবার ভারতে ফিরে যায়। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যাপারে মেডিকেল টিমের ভ‚মিকা খুবই নগন্য।

বেনাপোল বন্দরের এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, গত ১৭ জানুয়ারি থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভার ও খালাসী বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেছে। কিন্তু সেখানে মাত্র ১১ হাজার ৭৩১ জনকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। ভারতীয় ট্রাক চালক কার্তিক দাস বলেন, ট্রাক নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পরও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। এমনকি ভারতেও কোনো চেকআপের ব্যবস্থা নেই। বেনাপোল চেকপোস্টে কর্মরত স্বাস্থ্য বিভাগ গত ১৭ দিনে মোট ৭ হাজার ১৩২ জন বিদেশী নাগরিকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইউছুপ আলী জানান, সরকার ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে চেকপোস্টে মেডিকেল টিম কাজ করছে। যাত্রী প্রবেশের সময়সীমা পর্যন্ত মেডিকেল টিম কাজ করে। এই স্থলবন্দর দিয়ে বিশেষ করে চীন থেকে পাসপোর্ট যাত্রীদের আসার সম্ভাবনা থাকায় তাদের চেকআপ করা হয়। ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকের চালক ও সহকারীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, ভারতীয় ট্রাক চালকদের বাংলাদেশে প্রবেশের আগে যাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় তার জন্য দ্রুত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এআইএস

 






ads
ads