স্কুলের নৈশ প্রহরীর সঙ্গে শিক্ষার্থীর মায়ের অবৈধ সম্পর্ক!

স্কুলের নৈশ প্রহরীর সঙ্গে শিক্ষার্থীর মায়ের অবৈধ সম্পর্ক!
প্রতীকী ছবি

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৮:২০

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা সদরের চান্দিনা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরির বিরুদ্ধে অনৈতিক কার্যকলাপ ও মাদক সেবনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় অভিযুক্ত মো. শরীফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

একই সাথে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির (এসএমসি) সভায় তাকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে তাকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করার বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা অফিস থেকে গঠন করা দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি চান্দিনা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কাউছারুজ্জামান জানান, ‘গত বছরের ১৪ নভেম্বর সকালে বিদ্যালয়ে এসে নৈশ প্রহরী শরীফুল ইসলামকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায় সে মাদক জাতীয় দ্রব্য সেবন করেছিল। ১৫ নভেম্বর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়ে এক জরুরী সভা করে তাকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়।’

বিদ্যালয়ের এসএমসি ও একাধিক অভিভাবকের সাথে কথা বলে জানা যায়, শরীফুল ইসলাম দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মায়ের সাথে অবৈধ ও অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। একাধিকবার এ বিষয়ে সালিশ দরবার হয়। ওই ঘটনা জানাজানি হলে ২৩ জানুয়ারি বিদ্যালয়ের এসএমসির সভায় রেজুলেশনের মাধ্যমে তাকে অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করা হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি চান্দিনা থানা পুলিশ এক নারীকে অপহরণের দায়ে তাকে বিদ্যালয় থেকে আটক করে নিয়ে যায়।

বিদ্যালয়ের এসএমসি সহ-সভাপতি কাজী জাফর উল্লাহ্ আজাদ জানান, ১৭ ফেব্রুয়ারি আমাদের বিদ্যালয়ের এসএমসির সভা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরি শরীফুল ইসলামকে অনৈতিক কাজের দায়ে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করার জন্য আমরা চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করেছি।

তিনি আরও জানান, অনৈতিক কাজের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ায় অভিভাকদের অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। আমি পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হওয়ার কারণে অনেকেই এ বিষয়ে আমার নিকট অভিযোগ করেছেন। বিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট তার চূড়ান্ত বরখাস্ত প্রত্যাশা করি।

এ ব্যাপারে নৈশ প্রহরী কাম দপ্তরী শরীফুল ইসলাম বলেন, আমি মাদকের সাথে কখনোই সম্পৃক্ত নই। আর আমার কারো সাথে অনৈতিক সম্পর্ক নেই। আমি একজনকে ভালোবেসে বিয়ে করেছি। তদন্ত কমিটির নিকট আমি বিবাহের রেজিস্ট্রেশন পেশ করেছি।

চান্দিনা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল্লাহ্ আল মামুন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার নিজাম উদ্দিন ও মিজানুর রহমান পাটোয়ারিকে নিয়ে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির তদন্তের কাজ চলছে। শরীফুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/আরবি




Loading...
ads






Loading...