মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে প্রতারণা!

মানবকণ্ঠ
ছবি - প্রতিবেদক

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:৩৮,  আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:৪৬

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা সনদ দেওয়ার নাম করে হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া গ্রামের মৃত. বাবর আলীর ছেলে।

প্রতারণার খপ্পরে পড়েছেন একই গ্রামের মৃত মাহমুদ সরকারের ছেলে বাহাদুর সরকার ও মৃত তয়োব আলীর ছেলে গফুর মোল্লা।

প্রতারণার অভিযোগে হাবিবুর রহমানের নামে গ্রামের প্রধানদের কাছে মৌখিকভাবে বিচার চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এছাড়াও অভিযুক্ত হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতারণার মামলা চলমান রয়েছে। মামলা করেছেন একই উপজেলার তাড়াশ সদরের মাদরাসাপাড়ার আবুল বাসার নামের এক ব্যবসায়ী।

অভিযোগ উঠেছে, হাবিবুর রহমান সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা সনদ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ভুক্তভোগী বাহাদুর সরকারের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে প্রথমপর্যায়ে ৪০ হাজার টাকা নেন হাবিব। অপরদিকে গফুর মোল্লার কাছ থেকে একইভাবে প্রতারণা করে মুক্তিযোদ্ধার সনদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে নগদ ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। পরে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সনদ না পেলে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন টালবাহানা করেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়েই হাবিবের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর কাছে বিচার চান তারা।

বাহাদুর সরকার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছি। তবে মুক্তিযোদ্ধার কোনো সনদ পাইনি। সনদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ২ লাখ টাকা দাবি করে ৪০ হাজার টাকা নেয় আর বাকী টাকা সনদ দেওয়ার পরে নিবে। সে বলে তার নিজের লোক মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে আছে। অনেকদিন পেরিয়ে গেলেও কোনো সনদ না দিয়ে টালবাহানা করতে থাকে। আমি টাকা ফেরত চাইলে সে নানা ধরনের হুমকি ধামকি দেয়। বাধ্য হয়ে গ্রাম প্রধানদের নিকট বিচার চেয়েছি।

উপজেলার তাড়াশ সদরের মাদরাসাপাড়ার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে আবুল বাসার বলেন, হাবিবুর রহমান জমির মামলার ডিক্রি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে আমার কাছ থেকে ৩টি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সাক্ষর দিয়ে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেন। টাকা দিয়েও কোনো কাজ না হলে টাকা ফেরৎ চাইলে তিনি তা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। বাধ্য হয়েই আমি আদালতে মামলা করেছি। পুলিশ তাকে গ্রেফতারও করেছিল। বর্তমানে জামিনে এসে আমাকেসহ মামলার সাক্ষীদের হুমকি দিচ্ছে।

বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হান্নান ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সনদ দেওয়ার কথা বলে বাহাদুর সরকারের কাছ থেকে হাবিবুর রহমান ৪০ হাজার ও গফুর মোল্লার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা প্রতারণা করে নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারা আমাদের কাছে মৌখিকভাবে বিচার চেয়েছেন।

অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান (হাবিব) অভিযোগসমূহ অস্বীকার করে বলেন, এগুলো আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মাত্র।

মানবকণ্ঠ/জেএস






ads