ডিবি পরিচয়ে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়, গ্রেফতার ৪

ডিবি পরিচয়ে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়, গ্রেফতার ৪
ডিবি পরিচয়ে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়, গ্রেফতার ৪ - ছবি: প্রতীকী

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:৩২

নরসিংদী আদালতের সামনে থেকে ডিবি পরিচয়ে রাসেল নামের এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া অপহরণ চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে নরসিংদী হতে সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের ৪ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- অভিত মিয়া (২৮), পাপ্পু মিয়া (২৮), মারিয়া আক্তার মন্টি (২৩) ও বাদল মিয়া (৫৮)।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে র‌্যাব-১১ এর আদমজী নগর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপউদ্দিন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাসেল (২৮) নামক এক ব্যক্তি র‌্যাব-১১ এর সদর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করে জানায়, গত ২৮ ডিসেম্বর তাকে ডিবির পরিচয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি নরসিংদী আদালতের সামনে থেকে তাকে মাইক্রোবাসযোগে তুলে নিয়ে যায়। পরে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগে তাকে অচেতন করে একটি ফ্ল্যাট বাসায় নিয়ে হাত-পা ও চোখ বেঁধে মারধর করাসহ বিভিন্ন শারীরিক নির্যাতন চালায়। সেই নির্যাতনের চিত্র মোবাইলে ধারণ করে। রাসেলকে জিম্মি করে হত্যার হুমকি দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায় করে। গ্রেফতারের পর তারা রাসেল (২৮)কে অপহরণের বিষয়ে স্বীকারোক্তি প্রদানসহ অন্যান্য আরও অপরাধের লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা আরো জানান, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা অপহরণের উদ্দেশ্যে নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ছদ্মবেশে মাইক্রোবাস নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। সুযোগ বুঝে বিভিন্ন এলাকার বিত্তশালী লোকদের অপহরণ করে শরীরে চেতনা নাশক ওষুধ প্রয়োগে অচেতন করে গোপন স্থানে নিয়ে জিম্মি করে বিভিন্ন শারিরিক নির্যাতন করাসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে মোটা অংকের টাকা মুক্তিপণ নিয়ে থাকে।

রাসেলকে অপহরণের বিষয়ে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, গত ২৮ ডিসেম্বর নরসিংদী আদালতের সামনে থেকে একটি মাইক্রোবাসযোগে ছদ্মবেশে ডিবির পরিচয় দিয়ে রাসেলকে অপহরণের উদ্দেশ্যে তুলে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগে অচেতন করে তাদের ভাড়া করা একটি ফ্ল্যাট বাসায় নিয়ে যায়। পরে বাসায় একটি গোপন কক্ষের ভিতর হাত পা ও চোখ বেঁধে রাসেলকে মারধর করাসহ বিভিন্ন শারীরিক নির্যাতন করে। সেই নির্যাতনের ভিডিও তারা মোবাইলে ধারণ করে মুক্তিপণের ১০ লাখ টাকার জন্য রাসেলের পরিবারের কাছে পাঠায়। এই বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য পরিবারকে রাসেলকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

উলে­খ্য, অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা রাসেলের যৌনাঙ্গ সিগারেট জ্বালানোর লাইটারের সাহায্যে পুড়িয়ে দেয়। রাসেলের পরিবার কোনো উপায় না পেয়ে রাসেলের জীবন বাঁচাতে ওইদিন রাতে বিকাশের মাধ্যমে ৬০ হাজার টাকা পাঠায় এবং বাকী টাকা নগদে পরিশোধ করবে বলে জানায়।

পরদিন ২৯ ডিসের রাতে অবশিষ্ট টাকা নেওয়ার জন্য রাসেলকে নিয়ে একটি মাইক্রোবাসযোগে নরসিংদীর শাপলা চত্ত¡রে আসে। রাসেল প্রশ্রাব করা জন্য মাইক্রোবাস থেকে নামে। এসময় সেখান দিয়ে একটি পিকআপ ভ্যান যেতে দেখে রাসেল ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার দেয়। তার চিৎকারে লোকজন আসতে থাকলে অপহরণকারীরা তাকে রেখেই দ্রুত পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে রাসেল তার পরিবারের লোকজনের মাধ্যমে হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিৎসার নেওয়ার পর র‌্যাব-১১ বরাবর একটি অভিযোগ দেয়। র‌্যাব-১১ এর একটি বিশেষ দল গোয়েন্দা নজরধারীর মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা পেয়ে শুক্রবার রাতে নরসিংদী হতে সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের ৪ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করে।

মানবকণ্ঠ/এসকে




Loading...
ads






Loading...