১৯৭৫ সালে জন্মের সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি করছেন মুক্তিযোদ্ধা!

আব্দুল জলিল গাজী
আব্দুল জলিল গাজী - ছবি: প্রতিনিধি

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৭:১৫,  আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৭:৪০

শিরোনাম দেখে হয়ত অবাক হচ্ছেন! অবাক হওয়ারই কথা, কারণ দেশকে হানাদার মুক্ত করার জন্য ১৯৭১ সালে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল দেশ প্রেমিক সন্তানরা। অষ্টম শ্রেণি পাশের সার্টিফিকেট অনুযায়ী ১৯৭৫ সালে জন্ম নিয়েও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সকল সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন চিতলমারী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের কচুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি আব্দুল জলিল গাজী। তিনি চিতলমারি উপজেলার ০৪০৩০৪০০৪০ নং গেজেটের ৫৭ নং মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৯৫ সাল থেকে তিনি কচুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি পদে কর্মরত আছেন। আব্দুল জলিল গাজী সন্তোষপুর ইউনিয়নের কচুরিয়া গ্রামের মৃত ছহির উদ্দিন গাজীর ছেলে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে অষ্টম শ্রেণি পাশের সনদে মিথ্যা জন্ম তারিখ দিয়ে তিনি স্কুলে চাকুরি নিয়েছেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পরে তাকে স্কুলে দপ্তরীর চাকুরী ছেড়ে দেওয়ার কথা বললেও কোন কর্নপাত না করে চাকরি করে যাচ্ছেন এবং মুক্তিযোদ্ধার ভাতাও নিচ্ছেন। বিদ্যালয়ে দেওয়া অষ্টম শ্রেণির সনদ দেখার পরে সবার চোখ ছানাবড়া। কারণ ১৯৭৫ সালে জন্মগ্রহণ করে কিভাবে মুক্তিযোদ্ধা হন। আসলে তিনি মুক্তিযোদ্ধা কিনা এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

স্থানীয় একাধিক মুক্তিযোদ্ধার সাথে কথা বলে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় আব্দুল জলিল গাজীর বয়স ছিল প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছর। তিনি মুক্তিযুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছিলেন। সেই অনুযায়ী তিনি সরকার প্রদত্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। কিন্তু কিভাবে সে ওই স্কুলে দপ্তরির চাকুরী করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, প্রধান শিক্ষকের সাথে আতআত করে ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে তিনি চাকুরী করছেন।

সম্প্রতি কচুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়ের সামনের মাঠে রোদ পোহাচ্ছেন বয়সের ভারে নুয়ে পড়া একবৃদ্ধ। ভালভাবে হাটতে পারেন না। তার কাছে জানতে চাইলাম বিদ্যালয়ের দপ্তরি কোথায় আছে। তিনি বললেন আমিই দপ্তরি। অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি শিকার করেন তার অন্যায়ের কথা। তিনি বলেন, এখানে স্কুল করার জন্য আমি জমি দিয়েছি। জমি দানের সময় কথা ছিল আমাকে চাকুরী দিতে হবে। সেই জন্য প্রধান শিক্ষক আমাকে চাকুরী দিয়েছেন।

প্রধান শিক্ষক শাহজাহান শিকদার বলেন, যখন একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে হয় তখন অনেক কিছু করতে হয়। তাই কমিটি আব্দুল জলিল গাজীকে দপ্তরি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। তবে আমি জলিল সাহেবকে বলেছি আপনি চাকুরী ছেড়ে দেন।

বাগেরহাট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে দেখা হবে। সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/এসকে



poisha bazar

ads
ads