খুলনায় ওয়াসার সরবরাহের পরও পানি বঞ্চিত ৫০ ভাগ মানুষ

মানবকণ্ঠ

  • আলমগীর হান্নান, খুলনা ব্যুরো
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩:৩৩

কয়েক দফা সময় বৃদ্ধির পরও অর্ধেকের বেশি হাউজে সংযোগ প্রদান বাকি রেখেই শেষ করা হয়েছে দুই হাজার ৫শ' ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্প। ২০১৯ সালের জুন মাসে ঘোষণা দিয়েই শেষ করা হয়েছে প্রকল্প।

অথচ ৮ মাস পরও ৫০ ভাগ গ্রাহকের বাড়িতে পানি সরবরাহ করতে পারেনি সংস্থাটি। তবে চলতি মাসের মধ্যেই ৩৫ হাজার গ্রাহকের বাড়িতে পানি সরবরাহ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন সংস্থার কর্মকর্তারা। ডিপিপিতে ৭৫ হাজার গ্রাহকের বাড়িতে সংযোগের কথা থাকলেও তা বলছেন না কেউ। এজন্য প্রায় সাড়ে তিনশ' কোটি টাকা বাজেট রাখা হয় ডিপিপিতে। এখন নতুন করে কেউ সংযোগ নিতে গেলে তাকে টাকা দিয়েই সংযোগ গ্রহণ করতে হচ্ছে।

এদিকে কোনো ঘোষণা ছাড়াই ২০ শতাংশ পানির বিল বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে নগরবাসীর মাঝে।

আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা ওয়াসার মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১১ সালে। কয়েক দফা সময় বৃদ্ধি করে শেষ করা হয়েছে ২০১৯ সালের জুন মাসে। তবুও অসমাপ্ত রয়েছে অনেক কাজ।

প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাটের মোল্লাহাটের মধুমতি নদী থেকে পানি আনা হচ্ছে রূপসার সামন্তসেনা এলাকার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে। এখান থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পানি নেয়া হচ্ছে নগরীর ৭টি রিজার্ভার ও ১০টি ওভারহেড ট্যাংকে।

তবে প্রকল্পের মেয়াদ গত বছরের জুনে শেষ হলেও ৫০ ভাগ নতুন গ্রাহকই পাননি সংযোগ। আর যারা ওয়াসার পানি পাচ্ছেন তাদেরও বিল বাড়ানো হয়েছে ২০ শতাংশ। এ নিয়ে ক্ষুদ্ধ নগরবাসী।

বৃহত্তর খুলনা সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, প্রকল্পের আওতায় শতভাগ গ্রাহকের বাড়িতে পানি সরবরাহের বিষয়টি আগে নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু তা না করে পানির বিল বাড়লো এবং জনভোগান্তি রয়েই গেছে।

তবে ওয়াসার কর্মকর্তাদের দাবি, মার্চের মধ্যেই সুফল পাবেন সব গ্রাহক।

খুলনা ওয়াসার ডিএমডি কামাল উদ্দিন বলেন, এই মাসের মধ্যেই ৩৫ হাজার গ্রাহকের বাড়িতে সংযোগ দেয়া হবে। বাকি সংযোগের বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।

খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, মার্চের মধ্যেই অবশিষ্ট ওয়ার্ড এবং এলাকাগুলোতে যারা নতুন পাইপের মাধ্যমে পানি পাননি তাদের পানি সরবরাহ করা হবে। কাজ শেষ হলে প্রকল্পের আওতায় নগরীতে প্রতিদিন সরবরাহ হবে ১১ কোটি লিটার পানি।

মানবকণ্ঠ/জেএস

 



poisha bazar

ads
ads