মানিকগঞ্জে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয়ে অনিয়ম

এটিইও’র বিরুদ্ধে আট লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

উপহার গ্রহন ‌‘সামাজিকতা’ বললেন শিক্ষা কর্মকর্তা

মানবকণ্ঠ
ডিজিটাল হাজিরা মেশিন - ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • সংবাদদাতা, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২১:০৩

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ৮০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ক্রয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিইও) ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিলুফা রহমান জানিয়েছেন, শুনেছি, বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জেলা শিক্ষা অফিস কোনোভাবেই জড়িত নয়। হাজিরা মেশিন ক্রয়ে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সূত্র জানায়, সিংগাইর উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে মোট ৯৭টি। তার মধ্যে গত বছর ১৭টি বিদ্যালয়ে হাজিরা মেশিন কেনা হয়েছিল। বাকি ৮০টি বিদ্যালয়ে স্লিপ ফান্ড থেকে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনার জন্য চলতি অর্থ বছরে মেশিন প্রতি ৩৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়। স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের শিকক্ষকরা যাচাই-বাছাই করে মেশিন কেনার কথা থাকলেও এখানে ঘটেছে তার উল্টো।

সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক হোসেনের নির্দেশে জেলা শহরের ডিএসএস স্মার্ট সিকিউরিটি থেকে মেশিনগুলো ক্রয় করা হয়। তবে এসব মেশিনের বর্তমান বাজারমূল্য জানা নেই শিক্ষকদের।

এছাড়া শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের নির্দেশের বাইরে গিয়ে দরদাম করে মেশিন কেনার সুযোগও দেওয়া হয়নি তাদের। প্রভাব খাটিয়ে গোপনে চুক্তি করা প্রতিষ্ঠান থেকে মেশিন সরবরাহের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেন ওই কর্মকর্তা। মাত্র সাড়ে ৭ হাজার টাকার রিয়াল টাইম টি-৫২ জিপিআরএস মডেলের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন বসিয়ে প্রতিটির দাম নেওয়া হয়েছে ২০ হাজার ৭৫০ টাকা। আর স্থাপন ও আনুষাঙ্গিক ব্যয় মিলে খরচ হওয়ার কথা সাড়ে ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এই হিসেবে প্রতিটি মেশিন থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৮ লাখ টাকা।

এছাড়া গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর সরকার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে স্লিপের টাকা থেকে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনায় বিধি-নিষেধ জারি করেছিলো। সেই বিধিও এখানে মানা হয়নি। তাছাড়া প্রভাবশালী এ কর্মকর্তার দাপটে শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা কোনঠাসায় রয়েছেন বলে একাধিক শিক্ষক জানান।

এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে শিক্ষক ও সুধীমহলে তোলপাড় শুরু হয়। জনমনে দেখা দেয় নানা প্রশ্ন। এটিইও ফারুক হোসেনের আর্থিক কেলেঙ্কারির পাশাপাশি বিগত ও বর্তমান কর্মস্থলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে উপহার গ্রহন ও কতিপয় শিক্ষিকার সঙ্গে সখ্যতা নিয়েও ওঠেছে নানা প্রশ্ন।

অভিযুক্ত এটিইও ফারুক হোসেন বলেন, আমি ছুটিতে আছি। তিনদিন পর অফিসে যোগদান করলে তখন কথা হবে। শুধু শুধু আমাকে বিরক্ত করবেন না।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা নার্গিস আক্তার বলেন, সঠিক নিয়মেই মেশিন ক্রয় করা হয়েছে। উপহার গ্রহন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা সামাজিকতা।

মানবকণ্ঠ/ইএস/আরবি




Loading...
ads






Loading...