খুলনায় মাওলানা সাদপন্থীদের জমায়েত বন্ধের দাবি

মানবকণ্ঠ
ছবি - প্রতিবেদক।

  • আলমগীর হান্নান, খুলনা ব্যুরো
  • ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫:২৭

খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার হরিণটানা এলাকায় অনুষ্ঠিতব্য খুলনা জেলা ইজতেমার নামে ভ্রান্ত মাওলানা সাদ অনুসারীদের দাওয়াত ও তাবলীগের লেবাসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও ইসলাম বিরোধী প্রচারণার শঙ্কায় জমায়েত বন্ধের দাবি জানিয়েছেন খুলনার উলামায়ে কেরামগণ।

আজ রোববার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান তারা।

সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতায় মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া বলেন, বারবার আল্লাহ’র ও তার প্রেরিত রাসূল (সা.) প্রচারিত একমাত্র সত্য দ্বীন ইসলাম, দাওয়াত ও তাবলীগের উপরে নানাভাবে পথভ্রষ্টদের মনগড়া ভ্রান্ত নীতি প্রচারের পায়তারা করছে ইসলামের দুষ্কৃতিকারীরা। খুলনা জেলা ইজতেমার নামে ভ্রান্ত মাওলানা সাদ অনুসারীদের একটি গ্রুপ জমায়েতের পরিকল্পনায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এটি সহজ-সরল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের পথভ্রষ্ট ও গোমরাহীর পথে ধাবিত করানোর একটি অপপ্রচেষ্টার সুকৌশল মাত্র। তাই দাওয়াত ও তাবলীগের লেবাসে খুলনা জেলা ইজতেমার নামে বটিয়াঘাটায় অনুষ্ঠিতব্য জমায়েত অবিলম্বে বন্ধ করতে খুলনায় সর্বস্তরের ও উলামায়ে কেরাম ও আলমী শুরার তাবলীগী সাথীরা ময়দানে নেমেছে। ইতোমধ্যে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী এবং গত ১১ ফেব্রুয়ারি খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল ও জেলা প্রশাসনের সাথে খুলনার শীর্ষ উলামানের নেতৃত্বে মতবিনিময় করে তাবলীগের দ্বীনি দাওয়াতী কার্যক্রম সুষ্ঠু, সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার স্বার্থে অবিয়ে খুলনা জেলা ইজতেমার নামে নিয়ে অনুষ্ঠিতব্য জমায়েত অবিলম্বে বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়। অন্যথায় দেশের শীর্ষ উলামা ও তাবলীগের সাথীরা খুলনাবাসীকে সাথে নিয়ে বাতিলের জমায়েত রুখে দেবে ইনশা-আল্লাহ।

সম্মেলনে বলা হয়, প্রতি বছর টঙ্গী ময়দানে তাবলীগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে; সেখানে সারাবিশ্বেরসহ বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মুসল্লি অংশগহণ করেন। এ বছরও ১০, ১১ ও ১২ জানুয়ারি উলামায়ে কেরামের রাহবারিতে টঙ্গী ময়দানে অন্তত ১৮ লক্ষ মুসল্লি উপস্থিত হন। যা ৫৫ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক। এই ইজতেমা থেকে ৩০০৭টি জামাত বের হয়ে সারাদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। পরের সপ্তাহে ১৭, ১৮ ও ১৯ জানুয়ারি বিতর্কিত মাওলানা সাদপন্থীদের ইজতেমা টঙ্গীর ময়দানে স্বল্প সংখ্যক সরলমনা মুসল্লির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। এরপরও খুলনাতে ইজতেমার উদ্দেশ্য কী? ইজতেমা দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতে বিশখলা সৃষ্টির লক্ষ্যে সাদপন্থীরা সরলমনা মুসলমানদের ঈমান ও আকিদা নষ্ট করবে। ফলে অবিলম্বে ইজতেমার নামে সমাবেশের অনুমতি না দেবার জন্য সরকারের প্রতি বিনম্র আহ্বান জানিয়েছেন খুলনার শীর্ষ উলামাগণ।

এরআগে জেলা ইজতেমার নামে রূপসায় ভ্রান্ত মাওলানা সাদ অনুসারীদের পক্ষে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বন্ধ করে দিয়েছিল তৌহিদী জনতা। ফলে ইজতেমার নামে জমায়েত বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল তারা।

আপনারা জানেন, ২০১৮ সালের পহেলা ডিসেম্বর বিশ্ব ইজতেমা মাঠে ওয়াসিফ ও নাসিমের নেতৃত্বে তার পোষ্য বাহিনী নিরীহ তাবলীগের সাথী ও আলেম উলামাদের উপরে নির্মম ও বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে সহস্রাধিক সাথীকে আহত করেছিল; যাতে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অনেকেই। তারা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন। যা তাবলীগের ইতিহাসে কলঙ্কিত অধ্যায়। সেই হামলাকারীদের একটি গ্রুপ খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলাধীন শহরতলীতের জেলা ইজতেমার নামে একটি বিভ্রান্তিকর অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। যা তাবলীগ জামাতের জন্য সংকটকে তীব্র থেকে তীব্রতর করবে।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যক্ষ আসাদুল্লাহ, মুফতি মাহফুজুর রহমান, আবু মূসা, আবুজার, মাওলানা তাফসির, রাশেদ, আবুল কালাম, আলী আকবরসহ অর্ধশতাধিক ওলামায়ে কেরাম।



poisha bazar

ads
ads