মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে দলিল!

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে দলিল!

poisha bazar

  • সংবাদদাতা, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:০২

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের নহর শেখের ৩৫ বছর আগে মৃত স্ত্রী দৌলতবিনেছাকে উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার নজরুল ইসলাম মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জীবিত দেখিয়ে তার নামীয় ৫০ শতাংশ জমি বিক্রি ও দলিল সম্পাদন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের নহর শেখের স্ত্রী দৌলতবিনেছা ৩৫ বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে জীবিত দেখিয়ে তার নামীয় মৌজা-রাজিবপুর. জেএল নং ৩৩, এসএ- ২৮৫ দাগ নং- এসএ ৩৬০, ৩৭৬, ৩৭৭ দাগ সমূহে মোট আবাদি জমি ৫৪ শতাংশ মধ্যে ৫০ শতাংশ জমির ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা মূল্য দেখিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রভাষক ইসমাইল হোসেন তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গোল্ডেন লাইফ একাডেমির নামে দানপত্র কবলা দলিল সম্পাদন করে। জাল দলিলের বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর এ নিয়ে উপজেলায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

দৌলতবিনেছার নাতি আব্দুল করিম বলেন, আমার দাদি মারা গেছেন ৩৫ বছর আগে। মরা মানুষ কীভাবে জীবিত হলো? আবার তার নামের জমি আরেকজনের নামে কবলা হলো কীভাবে? আমরা ঘটনাটি জানার পর সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানাই। তিনি আমাদের বলেন, আমি তো বিষয়টি জানি না।

দলিল লেখক মো. নুরুন্নবী বলেন, আমি এতো কিছু জানতাম না। দুনীর্তিবাজ ইসমাইল হোসেন দৌলতবিনেছার জাতীয় পরিচয়পত্র আইডি কার্ড জাল করে আমাকে ভুল বুঝিয়ে দলিলটি লিখিয়েছে। আমি তার কাছ থেকে খরচ বাবদ ১৫ হাজার টাকা নিয়েছি। এর বেশি এক টাকাও নেইনি।

রাজিবপুর টেকনিকেল এন্ড বিএম কলেজের প্রভাষক ইসমাইল হোসেন বলেন, আমি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করতে যাচ্ছি। সেজন্য জমি দরকার জমি কিনেছি। যেহেতু একটা সমস্যা হয়েছে, জমির মালিকদের সঙ্গে তাই আমি সমঝোতা করবো।

রাজিবপুর টেকনিকেল এন্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদ রানা বলেন, কলেজের কিছু গোপন বিষয় আছে। বিষয়টি আপনাকে বলা যাবে না। প্রভাষক ইসমাইল হোসেনকে নোটিশ দিয়েছিলাম পরে মিমাংসা করে দিয়েছি।

রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদি হাসান বলেন, জাল দলিলের বিষয়ে আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে রাজিবপুর টেকনিকেল এন্ড বিএম কলেজের প্রভাষক ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মানবকণ্ঠ/ইএস/আরবি





ads






Loading...