কলাপাড়ায় ৫০টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা চলছে কাগজে-কলমে

কলাপাড়ায় ৫০টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা চলছে কাগজে-কলমে
কলাপাড়ায় ৫০টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা চলছে কাগজে-কলমে - প্রতিনিধি।

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৯:৫৭

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অন্তত ৫০টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা চলছে কাগজে কলমে। বাস্তবে কাম্য সংখ্যক শিক্ষার্থী নেই এসব প্রতিষ্ঠানে। এমনকি অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী জানে না, কে কোন শ্রেনীতে পড়ে। এসকল প্রতিষ্ঠানে কাগজে কলমে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের উপস্থিতি দেখানো হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের চুঙ্গাপাশা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার ৯ বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থী মাসুম নিজেই জানে না, কোন ক্লাশে পড়ছে সে। রোল নম্বরও জানা নেই তার। সহকারী শিক্ষক ইউসুব আলী বললেন মাসুম ক্লাশ ফোরের ছাত্র। রোল নম্বর দুই। একই বেঞ্চে মাসুমের পাশে বসেছিল প্রথম শ্রেণির শিশু জান্নাতি ও তামিম। পাশের আরেক বেঞ্চে বসেছিল দশ বছরের তামান্না আক্তার ও মীম আক্তার।

সহকারী শিক্ষক ইউসুব আলী ছাড়াও প্রধান শিক্ষক মোখলেছুর রহমান একটি কক্ষে বসে সকল ক্লাশের মোট পাঁচ জন শিশু শিক্ষার্থী নিয়ে বসেছেন। মাদ্রাসার কাগজপত্রে পঞ্চম শ্রেণিতে দুই জন। চতুর্থ শ্রেণিতে চারজন। তৃতীয় শ্রেণিতে একজন। দ্বিতীয় শ্রেণিতে একজন। আর প্রথম শ্রেণিতে ১৬ জন। মোট ২৪ জন।

স্থানীয়দের অভিযোগ যে পাঁচ জন উপস্থিত রয়েছে তাঁদের ধার করে আনা হয়েছে। আর রেজিস্টারে যাদের নাম লেখা আছে ওই ২৪ জনের অর্ধেক ভ‚য়া নাম। শিক্ষক চারজনের বাকি দুইজনকে পাওয়া যায়নি। প্রধান শিক্ষক সঠিকভাবে জানাতে পারেননি সরকারিভাবে কয় সেট বই পেয়েছেন।

কলাপাড়ার অর্ধশত মাদ্রাসার একই দশা। ইতোমধ্যে সরকারিভাবে এসব প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেয়ার ঘোষণায় এসব ইবতেদায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দ্রুত গজিয়ে উঠছে। যেখানে কলাপাড়ায় বেন-বেইজের তালিকাভুক্ত ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সংখ্যা ছিল ২৩টি। আর সেখানে এখন তালিকা হঠাৎ করে বেড়ে ৬৯এ পৌঁছেছে। আর একটি দালালচক্র এসব প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি করিয়ে দেয়ার জন্য লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এখন উপজেলা নির্বাহী অফিস থেকে তালিকাভুক্ত করে জেলায় পাঠানোর ধাঁন্ধায় রয়েছে তারা।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের একাডেমিক সুপারভাইজার মো: মনিরুজ্জামান বলেন, ’কলাপাড়ায় বেন-বেইজের তালিকাভুক্ত ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সংখ্যা ২৩টি। তন্মধ্যে ১১শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রেরন করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির জন্য।’

মানবকণ্ঠ/এআইএস






ads