মহাসড়কের লেন দখল করে হাইওয়ে পুলিশের ডাম্পিং ষ্টেশন

মহাসড়কের লেন দখল করে হাইওয়ে পুলিশের ডাম্পিং ষ্টেশন
মহাসড়কের লেন দখল করে হাইওয়ে পুলিশের ডাম্পিং ষ্টেশন - প্রতিনিধি

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৪৯

ঢাকা-ময়মনসিংহ চারলেন সড়কের ব্যস্ততম এলাকা মাওনা চৌরাস্তা। এলাকাটিতে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে দীর্ঘ সময় যানজট লেগে থাকতো। জনবহুল এই এলাকার গুরুত্ব বিবেচনা করে এখানে একটি উড়াল সেতু নির্মাণ করে সরকার। চারলেন ও উড়াল সড়ক থাকার পরও এই এলাকার জনদুর্ভোগ কোনমতেই কমেনি, বরং বেড়েছে সাধারণ লোকজন ও পথচারীদের দুর্ভোগ।

উড়াল সড়কের পাশেই মহাসড়কের এক লেন দখল করে হাইওয়ে পুলিশ গড়ে তুলেছে ডাম্পিং ষ্টেশন। ডাম্পিং ষ্টেশনটি মহাসড়কের লেন ছাপিয়ে ফুটপাটও দখল করে নিয়েছে অটো রিক্সা ও ব্যাটারী চালিত যানবাহন। যখন যানবাহনের চাপ বেড়ে যায় তখন কার্যত দুই লেনেই থাকে বন্ধ। এসব ডাম্পিং ষ্টেশনে চারলেনের সুফল পাওয়ার পরিবর্তে জনদুর্ভোগ বাড়লেও পুলিশ জায়গা সংকটের অভাবের কথায় বলছেন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

হাইওয়ে পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভবানীপুর থেকে জৈনাবাজার ২২ কিলোমিটার মহাসড়কের নিরাপত্তায় নিয়োজিত মাওনা হাইওয়ে থানা। প্রতিদিনই বিভিন্ন অভিযোগ ও দুর্ঘটনায় কবলিত মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান পুলিশের জব্দকৃত যানবাহনগুলো মাওনা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে মহাসড়কের এক লেন দখল করে রাখা হয়। এসব জব্দকরা যানবাহনগুলোর মধ্যে কিছু যানবাহন মহাসড়কের উপরেই পড়ে থাকে বছরের পর বছর। দীর্ঘসময় পড়ে থেকে এসব গাড়ী যেমন সড়কে চলাচলের সক্ষমতা হারাচ্ছে তেমনি যানচলাচলের প্রতিবন্ধকতাসহ নানা ধরনের সমস্যার তৈরী করছে।

তাকওয়া পরিবহনের চালক আমিনুল ইসলাম বলেন, স্বল্প দূরত্বে চলাচলকারী এই পরিবহনগুলো উড়াল সেতুর নীচ দিয়েই চলাচল করতে হয়। দুরপাল্লার যানগুলো উড়াল সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করে। উড়াল সেতু ঘেঁষে থাকা মাওনা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনে দীর্ঘ জায়গা জুড়ে মহাসড়কের এক লেন দখল করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন অভিযোগে আটক বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। এতে প্রায়ই যানজটের তৈরী হচ্ছে। ময়মনসিংহগামী দুই লেন থেকে এক লেন দখল করে জব্দকৃত যানবাহন রাখায় প্রায় সময় ছোট-খাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।

ট্রাক চালক লিয়াকত আলী বলেন, পুলিশের দেখাদেখি অনেক সাধারণ পরিবহনের চালকরাও মহাসড়কের মধ্যেই গাড়ী পার্কিং করে রাখেন। এতে প্রতিনিয়তই যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

মাওনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, মহাসড়ক থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে হাইওয়ে থানার অবস্থান হওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয় মাওনা চৌরাস্তায় মহাসড়কের পাশে ফাঁড়ি থেকে। সেখানে জায়গা সংকট একটি বিরাট সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। জব্দকৃত যানবাহন রাখার কোন ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই মহাসড়কের পাশেই গাড়ীগুলো রাখতে হচ্ছে। এটিতে দৃষ্টিকটু ও জনদুর্ভোগ তৈরী হলেও আসলে কোন উপায় যে নেই।

হাইওয়ে পুলিশের গাজীপুর জোনের পুলিশ সুপার আলী আহমেদ খান জানান, মহাসড়কের নিরাপত্তায় নিয়োজিত হাইওয়ে পুলিশের জব্দকৃত যানবাহন রাখার মত কোন জায়গা আমরা বরাদ্ধ পাইনি। স্থানের অভাবেই মূলত মহাসড়কের পাশেই গাড়ীগুলো রাখতে হচ্ছে। এই সমস্যা লাঘবে মহাসড়কের প্রতিটি থানার জন্য পাঁচ একর করে ভূমি ডাম্পিং ষ্টেশনের জন্য বরাদ্ধ দেয়ার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে অচিরেই জায়গা বরাদ্ধ পাওয়া যাবে, সমস্যারও সমাধান হবে।

মানবকণ্ঠ/এসকে




Loading...
ads






Loading...