ঝালকাঠিতে সরিষার বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

ঝালকাঠিতে সরিষার বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি
রাজাপুরে সরিষার বাম্পার ফলনে মাঠের দিগন্ত জুড়ে হলুদের হাতছানি - প্রতিনিধি

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৮:২৭

ঝালকাঠির রাজাপুরে দিগন্ত জোড়া মাঠে সরিষার হলুদ ফুলে কৃষকের স্বপ্ন রঙিন হয়েছে। চারদিকে সরিষার ক্ষেত যেন বাতাসে দুলছে। আর এ কারণে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক। যেমনি সরিষার বাম্পার ফলন তেমনি ফুলের মধু গ্রামীণ অর্থনীতিতে সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলার বামনকাঠি এলাকায় মাঠজুড়ে সরিষা ক্ষেত। যতদূর চোখ যায় হলুদ গাদা ফুলের ন্যায় সুসাজে সজ্জিত ফসলের মাঠ। কৃষক অক্লান্ত পরিশ্রম করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে মাটি চষে ফসল ফলায়। কৃষক চাষ শেষে আশায় বুক বেধে চেয়ে থাকে মাঠের পানে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবারে চলতি মৌসুমে বারি-১৪ জাতের সরিষা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে মোট ৪৬ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষে করা হয়েছে যা গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ। এবারে হেক্টর প্রতি ২০-২২ মণ সরিষা উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন উপজেলা কৃষি অফিস।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাঠে মাঠে শুধুই যেন হলুদের সমারোহ। সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে বামনকাঠির দিগন্ত জোড়া মাঠ। ক্ষেতে গুন গুন করছে মৌমাছি। সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করতে ব্যস্ত মৌমাছির ঝাঁক। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন এলাকার চাষীরা।

বামনকাঠি এলাকার কৃষক আজিজ হাওলাদার বলেন, স্বল্প সময়ে স্বল্প খরচে অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষে অধিক মুনাফা থাকায় কয়েক দফা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জমিতে আগাম জাতের সরিষার আবাদ করেছি। তিনি বলেন, ধানের দামের দরপতনের কারনে প্রতি বছরই তাদের লোকসান গুনতে হয়। তাই বিকল্প ফসল হিসেবে অন্য ফসলের পাশাপাশি তিনি সরিষা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

একই এলাকার কৃষক খলিল হাওলাদার বলেন, চলতি মৌসুমে এক একর জমিতে সরিষার আবাদ করেছি। এবার ভাল ফলন হয়েছে। এবার সরিষা তুলে নিয়ে ওই জমিতে তিল লাগাব। সরিষার ফসল থেকে উপার্জিত আয় তিল উৎপাদনে সহায়ক হবে বলে দাবি করেন তিনি।

কৃষক হেমায়েত বলেন, সরিষা চাষে সার কম প্রয়োগ করতে হয়। সেচ, কীটনাশক ও নিড়ানি তেমন লাগে না। একেবারই খরচ কম ও অল্প সময়ে এ ফসল ঘরে তোলা যায়। বর্তমান বাজারে দামও ভাল।

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, সরিষার রোগ বালাই দমনে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ বছরে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিয়াজ উল্লাহ বাহাদুর বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে চাষিদের সার, বীজ ও কীটনাশক সহ আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার আবাদ থেকে কৃষকরা বাড়তি মুনাফা আয় করতে পারবেন বলে আশা করেন তিনি।

মানবকণ্ঠ/এসকে



poisha bazar

ads
ads