12 12 12 12
দিন ঘন্টা  মিনিট  সেকেন্ড 

সিসি দিয়ে ভোট সুষ্ঠু করবে ইসি!

সিসি দিয়ে ভোট সুষ্ঠু করবে ইসি!
সিসি দিয়ে ভোট সুষ্ঠু করবে ইসি! - প্রতীকী

poisha bazar

  • জাহাঙ্গীর কিরণ
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৯:৫৩

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন ও নানা কার্যক্রমে বিতর্কে নিমজ্জিত নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিজেদের ইমেজ পুনরুদ্ধারে আসন্ন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। কোনোভাবেই এই ভোটকে বিতর্কিত করতে না দেয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এবার দুই সিটির সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন আয়োজনকারী এই প্রতিষ্ঠানটি। কেন্দ্র দখল, ভোট ডাকাতি, কারচুপি করলে ক্যামেরায় সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্যই এই পরিকল্পনা করেছে ইসি। এরইমধ্যে এই বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে দুই সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

এদিকে কমিশনের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ইসি সচিবালয় কাজ শুরু কওর দিয়েছে। তবে, সচিবালয় বলছে, ভোট কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত যেসব প্রতিষ্ঠানে আগে থেকেই সিসি ক্যামেরা রয়েছে শুধুমাত্র সেগুলোকেই সচল রাখা হবে।

রাজনৈতিক ও নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করা এবং ভোটে সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও অনিয়ম ঠেকাতে ইসির নেয়া এই উদ্যোগ খুবই প্রশংসনীয়। কমিশন সচিবালয়ের উচিত এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া। তাহলে একদিকে যেমন সুষ্ঠু ভোট সম্পন্ন করে ইসি নিজেদেও হারানো ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে পারবে অন্যদিকে কারও কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ দেখে সে বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার সব ভোটকেন্দ্র তিনদিন সিসি ক্যামেরার আওতায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুশীলন(মক ভোটিং) ভোটের দিন, ৩১ জানুয়ারি নির্বাচনের আগের দিন এবং ১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিনসহ মোট তিনদিন সব ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরায় চিত্রধারণ করার কথা বলা হয়েছে। ইসির সিস্টেম ম্যানেজার মো. আশরাফ হোসেন স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় জরুরি ভিত্তিতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ঢাকা দুই সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে- 'ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন-২০২০ এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন- ২০২০ এ ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করার জন্য ভোট কেন্দ্র হিসেবে যে সকল প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারন করা হয়েছে তারা বিদ্যমান সিসি ক্যামেরা মক ভোটিং এর দিন, নির্বাচনের পূর্বের দিন ও নির্বাচনের দিন ব্যবহার করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে শর্ত থাকে যে, ভোট গ্রহণের দিন গোপন কক্ষের কোন দৃশ্য সিসি ক্যামেরার আওতায় আসবে না।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান সিসি ক্যামেরার সংখ্যাসহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে বিদ্যমান সিসি ক্যামেরা মক ভোটিংয়ের দিন, নির্বাচনের পূর্বের দিন ও নির্বাচনের দিন ব্যবহার করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সিসি ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়ে সার্বিক সমন্বয় ও সহায়তার জন্য ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও ঢাকা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর এ বিষয়ে বলেন, ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত যেসব প্রতিষ্ঠানে আগে থেকেই সিসি ক্যামেরা আছে, সেগুলোকে সচল রাখার জন্য বলা হয়েছে। যাতে করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সেইসব ক্যামেরার মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করা যায়। তবে কেন্দ্রগুলোর বুথে কোনো ভাবেই যাতে কোনো সিসি ক্যামেরা না থাকে সেবিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে কোনো ধরনের কারচুপির সুযোগ নেই বলে দাবি করে তিনি বলেন, আমেরিকা, বৃটেনসহ কয়েকটি দেশের রাষ্টদূতরা ইসিতে এসে ইভিএম মেশিন দেখে গেছেন। এ নিয়ে তারা সন্তুষ্টও প্রকাশ করেছেন।

এ সময় বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, বিএনপি তো ইভিএম দেখতে আসেন না, আমরা তো ওপেন রেখেছি। আপনারা এসে দেখেন। যদি তারা না আসেন, আমরা তাদের কীভাবে আনতে পারি।

ইভিএমে জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, যদি কারও আঙুল না থাকে তবে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ওই ব্যক্তি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারার মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। এ ধরনের ঘটনায় মাত্র ১ শতাংশ ভোটার শনাক্ত করতে পারবেন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা। ১ শতাংশের বেশির প্রয়োজন হলে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিতে হবে। এছাড়া আরও বেশি লাগলে কমিশনের অনুমতি লাগবে। পরবর্তী সময়ে চাইলে এই ইভিএমের তথ্য জানা যাবে।

ইভিএমের ভোটের তথ্য আমাদের কাছে ডিজিটালি সংরক্ষণ করা থাকে; ফলে মামলা করারও সুযোগ রয়েছে- উল্লেখ করে ইসি সচিব বলেন, কেউ ইচ্ছা করলে এ নিয়ে আদালতেও যেতে পারেন। কেউ মামলা করলে আমরা তথ্য দেখাতে পারব।

নির্বাচনকে ঘিরে দুই দলের প্রার্থীদের আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আচরণবিধিটি ২০০৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় করা হয়েছিল। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে কি করা হয়? তারা সাধারণ জনগণ ও রাজনীতিকদের সঙ্গে খুব একটা কথা বলে আচরণ বিধিমালা করেননি। তখন সংলাপ হলেও সেটা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ হয়। অনেকের ভেতর ভয়ভীতি থাকে। তারা আচরণ বিধিমালায় অনেক কিছু চাপিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ২০০৯ এবং এখনকার পরিস্থিতি তো এক নয়। এখন ডেমোক্রেটিক গভর্মেন্ট, ডেমোক্রেটিক সিচ্যুয়েশন। এখন স্বাধীনভাবে মানুষ কথা বলতে পারে। এখন টক শো করছেন, এত টেলিভিশন, এত পত্রিকা। তখন কি এগুলো পারা যেত?

সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে- এমন অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, পর্যবেক্ষকদের কোনো কার্ড দেওয়ার ব্যাপারে কমিশন থেকে এখনও কোনো নির্দেশনা পাইনি। তবে যে নীতিমালা আছে সেই অনুযায়ী দিচ্ছি। যারা ইসিতে নিবন্ধিত তাদেরকেই কার্ড দেওয়া হবে।

মানবকণ্ঠ/এসকে




Loading...
ads






Loading...