কলাপাড়ায় ’অতিরিক্ত ক্লাসের’ নামে অর্থ হাতিয়ে নেন শিক্ষকরা

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া প্রতিনিধি

কলাপাড়ায় ’অতিরিক্ত ক্লাসের’ নামে অর্থ হাতিয়ে নেন শিক্ষকরা
কলাপাড়ায় ’অতিরিক্ত ক্লাসের’ নামে অর্থ হাতিয়ে নেন শিক্ষকরা - প্রতিনিধি।

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৫২

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় প্রাথমিক স্তরের পঞ্চম শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোচিংবাজ শিক্ষকদের পরিচালিত কোচিং’র নাম পরিবর্তন করে ’অতিরিক্ত ক্লাসের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্ডেনে কর্মরত শিক্ষকরা।

এনিয়ে উপজেলা প্রশাসন বললেন সুনির্দিষ্ট তথ্য, প্রমাণ পেলে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা যায়, জানুয়ারী ২০২০ নতুন বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের ভাল ফলাফলের গ্যারান্টি দিয়ে অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময় করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্লাস ও কোচিংয়ের নাম পরিবর্তন করে ’অতিরিক্ত ক্লাস’ নামে চাপিয়ে দিচ্ছে কোচিংবাজ শিক্ষকরা। পাশাপাশি শিক্ষার্থী প্রতি কোন কোন প্রতিষ্ঠানে মাসে আড়াই হাজার টাকা আবার কোন কোন প্রতিষ্ঠানে তিন হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়ার সাথে সাথে অভিভাবকরাও হিমশিম খাচ্ছে খরচ চালাতে। এতে বেশী ক্ষতির শিকার হচ্ছে অপেক্ষাকৃত গরিব এবং কম মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

এসব শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যেমন শিক্ষকদের পাঠদান বুঝতে পারছে না, তেমনি এক টানা ৭/৮ ঘন্টা ক্লাসে থাকার কারণে তারা বিনোদনের সময় পাচ্ছে না। ফলে সন্ধ্যা গড়াতে না গড়াতেই ঘুমিয়ে পড়ছে অনেকে।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় প্রাথমিকস্তরের কোচিংবাজ শিক্ষকরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এমনকি কোচিংয়ে না এলে পরীক্ষার উত্তরপত্রে নম্বর কমিয়ে দেয়া হচ্ছে।

এর আগে উপজেলা প্রশাসন এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকায় এসকল কোচিংবাজ শিক্ষকরা কিছুদিন ঘাপটি মেরে থাকলেও ফের কোচিং’র নাম পরিবর্তন করে ’অতিরিক্ত ক্লাশ’ নামে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বানিজ্য, যাতে করে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশিত পদক্ষেপ গুলো উপেক্ষিত হচ্ছে।

উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (প্রাথমিক) মো. আবুল বাশার জানান, শিক্ষা নীতি ২০১০ এ এসব বন্ধে যথাযথ নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক স্তরে দু’শিফটে ক্লাশ করার কোন সুযোগ নেই। এছাড়া কোচিং আদৌ করা যাবেনা বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরও বলেন, কিন্ডার গার্টেন স্কুল গুলো আমাদের আওতাভুক্ত নয়। ইউএনওকে বিষয়টি অবগত করতে বলেন তিনি।

কলাপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও অনুপ দাশ বলেন, ’এর আগেও অভিযোগের ভিত্তিতে তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোচিং বানিজ্যের সাথে জড়িত থাকার প্রমান পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।’

মানবকণ্ঠ/এআইএস






ads