চা বাগানে স্ত্রী-শাশুড়িসহ চারজনকে কুপিয়ে খুন করে আত্মহত্যা

মানবকণ্ঠ
মৌলভীবাজারে কুপিয়ে হত্যা - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ১০:৪৭,  আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৩:২১

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় চা বাগানের ভেতর স্ত্রী, শাশুড়ি ও দুই প্রতিবেশীকে কুপিয়ে হত্যার পর ঘাতক নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৫ জনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

রোববার (১৯ জানুয়ারি) ভোরের দিকে নির্মল নামে ওই ব্যক্তি প্রথমে তার স্ত্রীকে দা দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে জখম করে। এরপর শাশুড়িকে, পরে দুই প্রতিবেশীকে কুপিয়ে জখম করে। চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে খুনি নিজে বসতঘরের চালের তীরের সাথে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায় , বড়লেখা উপজেলার পাল্লাতল চা বাগানের শ্রমিক নির্মল মাদকাসক্ত থাকায় পরিবারে দীর্ঘ দিন ধরে ঝগড়া চলছিলো।পারিবারিক কলহের জের ধরে নির্মল নামে ওই ব্যাক্তি প্রথমে তার স্ত্রী ডলি, শাশুড়ি লক্ষ্মীও প্রতিবেশী বসন্ত ও বসন্তের মেয়ে শিউলিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এরা সবাই পাল্লাতল চা বাগানের শ্রমিক।

পাল্লাতল চা বাগানের ব্যাবস্থাপক এবি এম মাহবুবুর রহমান মানবকন্ঠকে জানান, রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এই ঘটনা ঘটতে পারে।

বড়লেখা থানার উপপরিদর্শক (এএসআই) রোকসানা বেগম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, অভিযুক্ত খুনি নির্মল মাদকাসক্ত ছিলেন।

চা বাগানের এক প্রতিবেশী শ্রমিক জানায়, রোববার ভোর রাতের দিকে নির্মল ও ডলির মধ্যে উচ্চস্বরে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ডলিকে মারধর শুরু করে নির্মল।  ডলি ভয়ে দৌড়ে অন্য ঘরে বাবা মায়ের কাছে চলে যায়। তখন নির্মল ধারালো অস্ত্র দিয়ে ডলিকে কোপাতে থাকে। মেয়েকে রক্ষা করতে শাশুড়ি ছুটে আসলে তাকেও কোপায়। এরপর বসন্ত ও শিউলি সেখানে আসলে দুজনকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে নির্মল। পরে চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে নির্মল নিজে বসতঘরের চালের তীরের সাথে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে।

জানা যায়, নির্মলের বাড়ি এই এলাকায় নয়। বছর খানিক আগে ডলির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তারপর থেকে সে শ্বশুর বাড়িতেই বসবাস করতো।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মো. ফারুক আহমেদ ও কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাউসার দস্তগীর ও বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিনুল হক।

বড়লেখা থানার ওসি বলেন, দূর্গম এলাকা থাকায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছাতে দেরি হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এসকে





ads







Loading...