মেয়রপুত্র সাম্য হত্যার দায়ে তিনজনের ফাঁসি

মেয়রপুত্র সাম্য হত্যার দায়ে তিনজনের ফাঁসি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৬ জানুয়ারি ২০২০, ২১:১৩

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌরমেয়র আতাউর রহমান সরকারের ছেলে স্কুলছাত্র আশিকুর রহমান সাম্য (১৩) হত্যা মামলার রায় তিন আসামিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দীলিপ কুমার ভৌমিক।

বৃহস্পতিবার দুপুরে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ আদেশ দেয়া হয়। এ আদেশে বাকি ৮ আসামিদের ৫ বছরের জেল ও প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— শাহারিয়ার সরকার হৃদয়, রাকিবুল হাসান সজিব ও মাহামুদুল হাসান জাকির প্রধান। এদের মধ্যে হৃদয় ও জাকির নিহত সাম্যর সহপাঠী।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মাসুদ প্রধান সুজন, আল-আমিন ইসলাম, আল-আমিন, রাবেয়া বেগম, শিমুল মিয়া, রুনা বেগম, জাহাঙ্গীর আলম ও সাবেক কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন। দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই গোবিন্দগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা।

মামলার রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও প্রতিহিংসার জেরে পরিকল্পিতভাবে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে স্কুলছাত্র সাম্যকে হত্যা করে মরদেহ সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখে।

রায়ের পর নিহত সাম্যর বাবা গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার আদালতে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১১ আসামি পরোক্ষ সহযোগিতায় তার ছেলেকে হত্যা করে। দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামিদের স্বীকারোক্তিতে হত্যাকাণ্ডটি আদালতে প্রমাণিত হয়। তবে আমাদের প্রত্যাশা ছিল, দোষীরা প্রত্যেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে। কিন্তু এ রায়ে আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আর তাই উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে অপহরণ করা হয় গোবিন্দগঞ্জ পৌর মেয়র ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান সরকারের একমাত্র ছেলে আশিকুর রহমান সাম্যকে। পরদিন বর্ধনকুঠি বটতলার কমিউনিটি সেন্টারের সেপটিক ট্যাংক থেকে সাম্যর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়।

হত্যার ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ পৌর কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীনকে প্রধান আসামি এবং সাম্যের সহপাঠীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন সাম্যর বাবা।

মামলায় অভিযুক্ত ১১ আসামির ৬ জন কারাগারে ও ৫ জন জামিনে ছিলেন। কারাগারে থেকে সকালে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। তাদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বিচারক।

মানবকণ্ঠ/আরবি






ads