সাড়ে তিন কোটি টাকা নিয়ে কোম্পানী উধাও, গ্রাহকরা অজ্ঞান

সাড়ে তিন কোটি টাকা কোম্পানী উধাও, গ্রাহকরা অজ্ঞান
কোম্পানি টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার খবরে গ্রাহকরা এভাবে অজ্ঞান হয়ে পড়ে - প্রতিনিধি

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৬:৪৩,  আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১৭:২১

পণ্য বিক্রি ও টাকা জামানত রাখার নামে সাড়ে তিন কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে মোনাবী অল বাংলাদেশ নামের একটি ভুয়া বেসরকারী কোম্পানী। এতে প্রতিষ্ঠানটির দুই’শ পাঁচজন কর্মী ও প্রায় এক হাজার গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ঘটনা ঘটেছে সোমবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে বরগুনার আমতলী পৌর শহরের হাসপাতাল সড়কে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গ্রাহকরা অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর শুরু করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা গেছে, মোনাবী অল বাংলাদেশ নামের একটি ভুয়া বেসরকারী কোম্পানী গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে আমতলীতে পণ্য বিক্রি ও অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ করে। প্রথমে আমতলী পৌর শহরের সাকিব প্লাজার তিন তলায় অফিস নেয়। সেখানে গত এক বছর ধরে কাযক্রম পরিচালনা করে আসছিলো প্রতিষ্ঠানটি। গ্রাহক সংগ্রহের জন্য আমতলী উপজেলায় দুইশ' পাঁচজন প্রতিনিধি নিয়োগ দেয় প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জামাল হোসেন মুকুল। প্রত্যেক প্রতিনিধির কাছ থেকে জামানত বাবদ সত্তর হাজার টাকা করে নেয়। প্রতিনিধিদের মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ দেয় তারা। প্রত্যেক প্রতিনিধি বিশ হাজার টাকা দামের একটি এলইডি টিভি বিক্রি করতে পারলে কোম্পানী থেকে এক হাজার পাঁচশ একচল্লিশ টাকা ফেরত দেয়। টিভি না নিয়ে টাকা জমা দিলেও তাকে ওই পরিমাণ টাকা ফেরত দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এভাবে যে যতগুলো টিভি বিক্রির নামে টাকা জমা দিতে পারবে তাকে প্রতি টিভি বাবদ এক হাজার পাঁচশ এক চল্লিশ টাকা দেয়া হবে। অধিক মুনাফার আশায় আমতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় এক হাজার গ্রাহক এভাবে টাকা জমা দিয়েছেন। পণ্য বিক্রি ছাড়াও অনেক গ্রাহক অধিক মুনাফার আশায় টাকা জমা দিয়েছেন। এছাড়াও এক লক্ষ টাকায় মাসে সাত হাজার সাতশ আট টাকা লাভ দিবে বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে। এভাবে প্রায় এক হাজার গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করেছে প্রতারক চক্রটি।

এভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতারক চক্রটি প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানান কোম্পানীর স্টোর ইন চাজ জামাল মিয়া। তাদের কাযক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমতলীর জনমনে সন্দেহ ছিল। গত তিন মাস আগে সাকিব প্লাজার অফিস ছেড়ে আমতলী হাসপাতাল এলাকায় অফিস ভাড়া নেয়।

সোমবার দুইশ পাঁচজন প্রতিনিধিদের বেতন দেয়ার কথা ছিল। ওইদিন সকালে প্রতিনিধিরা অফিসে বেতন নিতে আসেন। এ সময় অফিসের মাকেটিং অফিসার আনিস মিয়া, হিসাবরক্ষক আল আমিন, স্টোর ইন চার্জ জামাল মিয়া ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা দীপক চন্দ্র শীল উপস্থিত ছিল। সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেলেও চেয়ারম্যান জামাল হোসেন মুকুলের দেখা নেই। এর পর তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। চেয়ারম্যানের ফোন বন্ধ পেয়ে অফিসের কর্মকর্তারা সকলে সটকে পড়েন। এতে প্রতিনিধিদের সন্দেহ হয়। পরে উপস্থিত গ্রাহক ও প্রতিনিধিরা অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ দিকে কোম্পানী টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে কয়েকশ গ্রাহক অফিসের সামনে জড়ো হন। অনেক গ্রাহক ও প্রতিনিধি টাকা হারিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ ঘটনার পরপর কোম্পানীর চেয়ারম্যান জামাল হোসেন মুকুলসহ অফিসের সকল কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক ও প্রতিনিধি নার্গিস বেগম বলেন, আমি সরল বিশ্বাসে এ কোম্পানীতে দশ লক্ষ টাকা জমা দিয়েছি। প্রতিমাসে আমাকে সত্তর হাজার সাত শত টাকা মুনাফা দিতো। এভাবে গত তিন মাস পেয়েছি। এখনতো আমার সবই গেল। আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। আমাকে এখন পথে বসতে হবে।

জান্নাতি নামে একজন বলেন, আমাকে চাকরি দেয়ার সময় এক লক্ষ টাকা জমা দিয়েছি। এখন র্রিন্ত বেতন পাইনি। এখনতো পালিয়েই গেল। কী জবাব দেব বাড়ীতে গিয়ে।

প্রতিনিধি মেঘলা বলেন, আমি সকালে অফিসে বেতন নিতে এসে শুনি চেয়ারম্যান জামাল হোসেন বেতন নিয়ে আসবেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। পরে এক এক করে অফিসের সবাই পালিয়ে গেছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

মোনাবী অল বাংলাদেশ আমতলী শাখার স্টোর ইন চার্জ জামাল মিয়া বলেন, কোম্পানীর চেয়ারম্যান প্রতারক জামাল হোসেন মুকুল আমতলীর বিভিন্ন গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে মোনাবী অল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোঃ জামাল হোসেন মুকুলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

আমতলী থানার এসআই মোসাঃ নাসরিন বেগম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। প্রতারক চক্র পালিয়ে গেছে।

আমতলী থানার ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মানবকণ্ঠ/এসকে





ads






Loading...