যশোরের সেই ‘টাক মিলন’ গ্রেফতার

মানবকণ্ঠ
টাক মিলন - ছবি : সংগৃহীত।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১২:১৫,  আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২০, ১২:২০

যশোরের পালবাড়ি এলাকার ত্রাস, একাধিক মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানভুক্ত আসামি, বহুল আলোচিত সেই জাহিদ হোসেন মিলন ওরফে ‘টাক মিলন’ গ্রেফতার হয়েছেন।

রোববার সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি দুবাই থেকে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে দেশে ফেরছিলেন।

সোমবার যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।

মিলন যশোর জেলা যুবলীগের প্রচার সম্পাদক। কোতোয়ালি থানার তিনটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। মামলাগুলো তদন্ত করছে যশোরের ডিবি পুলিশ। ওয়ারেন্ট নাম্বার এসটিসি ২২৫/১৬, এস টিসি ২৬৩/১৫, ও এসটিসি ২৪৮/১৭। এসব মামলায় দীর্ঘদিন মিলন পলাতক থাকায় যশোর পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন থানায় ও ইমিগ্রেশনগুলোতে ইনফরমেশন দেয়া ছিলো।

এছাড়াও তিনি সোহাগ হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও এমপি কাজী নাবিলের বাড়িতে বোমা হামলা মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলার সন্দেহভাজন আসামি। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন যশোর ডিবির ওসি মারুফ আহমেদ।

যশোর পুলিশের মুখপাত্র মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, জাহিদ হোসেন মিলনের বিরুদ্ধে আদালতের তিনটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে নানা অপরাধে তথ্য পুলিশ হেডকোয়ার্টাসে ছিল। তিনি দুবাই থাকেন এবং প্রায়ই দেশে আসেন, এমন তথ্য ছিল পুলিশের কাছে। এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। রোববার সন্ধ্যায় দুবাই থেকে ফেরার পথে ইমিগ্রেশন পুলিশ মিলনকে গ্রেফতার করে আমাদেরকে অবহিত করে। সোমবার যশোর ডিবি পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হবে।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক যশোর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়া এলাকার যুবলীগকর্মী শরিফুল ইসলাম সোহাগকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এই হত্যাকাণ্ডের মূলপরিকল্পনাকারী জাহিদ হোসেন মিলন ওরফে টাক মিলন। এই মামলায় আটক আসামিদের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে টাক মিলনের নাম এসেছে। মামলার সন্ধিগ্ধ আসামি তিনি।

সূত্র আরও জানায়, ২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি রাতে যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের বাড়িতে বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত টাক মিলন। তার নেতৃত্বেই এই হামলা চালানো হয়েছিল বলেই পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এই দুটি মামলায় আদালতে রিমান্ড আবেদন করবে পুলিশ। জাহিদ হোসেন মিলন ওরফে টাক মিলন যশোর শহরের পালবাড়ি এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত।

সূত্র বলে, মিলনের বিরুদ্ধে ইজিবাইক, ট্রাক, এলাকার মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও পালবাড়ির রয়েল কমিউনিটি সেন্টারে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাসিনো (জুয়া) ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। সারাদেশে ক্যাসিনোবিরোধী ও শুদ্ধি অভিযান শুরু হলে গা ঢাকা দেন টাক মিলন। পুলিশ একাধিকার অভিযান চালালেও তাকে ধরতে পারেনি। সর্বশেষ তিনি স্ত্রী সন্তান নিয়ে দুবাইয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। সেখান থেকে মাঝে মাঝে দেশে আসতেন। এই তথ্য পুলিশের কাছে আসলে ইমিগ্রেশন পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। সর্বশেষ রোববার শাহজালাল বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ দুবাই থেকে ফেরার সময় স্ত্রী,-সন্তানসহ মিলনকে গ্রেফতার করে। স্ত্রী-সন্তানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আর মিলনকে যশোর ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। টাক মিলনের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ পালবাড়ি, পুরাতন কসবা এলাকার মানুষ। ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস পায়নি কেউ। তবে পুলিশের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় রয়েছে। যশোর পুলিশ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করলেও তাকে বাগে পাচ্ছিল না। অবশেষে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, জাহিদ হোসেন মিলন ওরফে টাক মিলনকে গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার অনুসারীরা ছাড়ানোর জন্য তৎপর হয়ে ওঠে। তারা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফ হোসেনের সঙ্গে দেখা করেন। তারা টাক মিলনকে ছেড়ে দেয়ার সুপারিশ নিয়ে যান। কিন্তু তাদের সুপারিশ প্রত্যাখান করেছেন পুলিশ সুপার।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads






Loading...