৫ পাই ডাক্তার

৫ পাই ডাক্তার

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১২ জানুয়ারি ২০২০, ২০:১৬

পুরো জেলায় ৫ পাই (পয়সা) ডাক্তার নামে সুখ্যাতি যে মানুষটির তার নাম নুরুল ইসলাম সরকার। গাইবান্ধা জেলা শহরের পুরাতন বাজারে নিজস্ব চিকিৎসালয়। তিনি রোগীদের নিয়মিত হোমিও চিকিৎসা দেন। প্রতিদিন দুর-দুরান্তর থেকে মানুষ ছুটে আসেন তার কাছে চিকিৎসা নিতে। মানুষ ৫ পাই ডাক্তার বলে ডাকায় এই নাম নিয়ে গর্ববোধ করেন নুরুল ইসলাম সরকার।

নুরুল ইসলাম সরকারের বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের পশ্চিম কোমরনই গ্রামে। ১৯২৯ সালে তিনি জন্মগ্রহন করেন। ১৯৫০ সালে মেট্রিকুলেশন পাস করেন। এরপর চাকরি করেন একটি কাপড়ের দোকানে। ১৯৬৭ সালে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৮ সালে প্রথম এক পুরিয়া ওষুধের দাম পাঁচ পয়সা নিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন নুরুল ইসলাম সরকার। তার চিকিৎসায় মানুষ দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠলে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। আর তখন থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে মানুষ ছুটে আসেন চিকিৎসা নিতে। এখন তার আসার আগেই রোগীদের ভিড় জমে চিকিৎসালয়ের সামনে।

তার চিকিৎসালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, শিশু, নারী, পুরুষ ও বৃদ্ধদের উপচেপড়া ভিড়। কেউবা দাঁড়িয়ে আবার কেউবা বসে আছেন। রোগীর কাছ থেকে রোগের বর্ণনা শুনে রোগ নির্ণয় করে একটি কাগজে ওষুধের নাম লিখছেন হোমিও চিকিৎসক নুরুল ইসলাম সরকার। পরে সেই কাগজ দেখে তার সহকারীরা ওষুধ তৈরি করে রোগির হাতে দিচ্ছেন।

শহরের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকার খলিলুর রহমান বলেন, আমার মা গলায় ভাত আটকে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তাকে সদর হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। তারা রংপুর মেডিকেলে নিয়ে যেতে পরামর্শ দিলেন। পরে মাকে ৫ পাই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। তার দেওয়া দুই পুরিয়া ওষুধ খেয়েই মা সুস্থ হয়ে ওঠেন।

শহরের সুখনগর এলাকার সুমন মিয়া বলেন, কোনো অসুখে আক্রান্ত হলেই বাবা ৫ পাই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতেন। ছোটবেলা থেকেই আমি ও আমার অন্যান্য ভাইবোনরা তার চিকিৎসা গ্রহন করছি। আমার সন্তান অসুস্থ হলে তাকেও ৫ পাই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। তার চিকিৎসায় আমরা সন্তুষ্ট।

নুরুল ইসলাম সরকারের চিকিৎসালয়ের সহকারী রনি মিয়া বলেন, চেম্বার খোলার আগেই জেলা সদর, সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্লাপুর ও ফুলছড়ি থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা আসেন। তার চিকিৎসার সুনাম এখন পুরো জেলাজুড়ে। এভাবে প্রতিদিনই প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ রোগির চিকিৎসা দিয়ে চলেছেন তিনি। এতে ওষুধের দাম ছাড়া কোনো ফি নেওয়া হয় না। বর্তমানে ওষুধের দাম অসুখের প্রকারভেদে নিয়ে থাকেন তিনি। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর সোয়া ১টা এবং বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত রোগী দেখেন নুরুল ইসলাম সরকার।

নুরুল ইসলাম সরকার বলেন, ১৯৬৮ সাল থেকে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত রয়েছি। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও নিজের চেষ্টা ও বই পড়ে চিকিৎসক হয়েছি। যতদিন বেঁচে থাকবো, মানুষকে সেবা দিয়ে যাবো।

মানবকণ্ঠ/আরবি






ads