দুদকের সাবেক ডিডি'র বিরুদ্ধে কাস্টমস’র মামলা : চার্জশিট দিতে গড়িমসি কেন?


poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:৪১

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক ডিডি আহসান আলীর বিরুদ্ধে বেনাপোল কাস্টমস’র দায়ের করা মামলায় দীর্ঘ ৩ মাসেও চার্জশিট দেয়নি বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ। গত ২৫শে সেপ্টেম্বর বেনাপোল কাস্টমস কমিশনারকে হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক ডিডি আহসান আলীর বিরুদ্ধে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি মামলা হয়। বেনাপোল কাস্টম হাউসের পক্ষে মামলাটি করেন কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা জিএম আশরাফুল ইসলাম।

যার মামলা নং-৩৮ তারিখ ২৫/০৯/১৯ ইং। মামলায় উল্লেখ করা হয়, দুদুকের সাবেক কর্মকর্তা আহসান আলী সরকারের ২ কোটি ২ লাখ ৭০৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনারকে হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। দুদুকের সাবেক কর্মকর্তার অব্যাহত চাপের মুখে পুলিশ চার্জ শিট দিতে গড়িমসি করছে বলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছেন।

কাস্টমসের সহকারী কমিশনার উওম চাকমা জানান, তদবীরবাজ আহসান আলীর অর্থ বিনিয়োগে রিতু ইন্টারন্যাশনাল ও জেড এইচ কর্পোরেশনের নামে আমদানি করা ৩১টি পণ্যচালানের বিপরীতে ২ কোটি ২ লাখ ৭০৮ টাকার রাজস্ব ফাকির তদবিরে ব্যর্থ হয়ে বেনামে দুদুক, রাজস্ব বোর্ড সহ বিভিন্ন দফতরে কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং তা বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ হিসেবে সরবরাহ করেন আহসান আলী।

ফলে কাস্টমস হাউসের কমিশনার শুল্কায়ন কাজে মনোনিবেশ করতে ব্যর্থ হওয়ায় চলতি অর্থ বছরে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ১১৭৪ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় কম হয়। এর আগে তিনি ফোন করে কমিশনার সহ দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি, এসএমএস এবং ১৯/১১/২০১৮ তারিখে সশরীরে এসে কমিশনারকে চাপ সৃষ্টি করেন। নিরপাত্তাজনিত কারণে কমিশনার’র কক্ষে তাঁর উপস্থিতিকাল ও কর্তবার্তা মোবাইলে ভিডিও করে রাখা হয়।

সম্প্রতি বেনাপোল কাস্টমস হাউস কর্তৃক আটককৃত ২ হাজার কোটি টাকা মূল্যের ৬৭ মণ (২.৫ মে. টন) ভায়াগ্রার ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্থ একটি মহল ও আহসান আলীর নেতৃত্বে চোরাকারবারী ও একটি সংঘবদ্ধ চক্র কমিশনার ও বেনাপোল কাস্টম হাউসের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত মিথ্যাচার, অপপ্রচার ও প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত আছে।

কাস্টমস অফিসার্স এসোসিয়েশনের পক্ষে বলা হয়, আহসান আলী সরকারের ২ কোটি ২ লক্ষ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার উদ্দেশ্যে কমিশনারের দপ্তরে সশরীরে এসে অবৈধ তদ্বিরসহ চাপ সৃষ্টি করা হয়। বেনামী অভিযোগ লিখে সশরীরে বিতরণ, সরকারের ১১৭৪ কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি সাধন, আরো ক্ষতির প্রচেষ্টায় ধারাবাহিক লিপ্ত আছেন। তিনি দুদকের কর্মকর্তা হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে শুল্ক ফাঁকির জন্য অবৈধ তদ্বির ও চাপ প্রয়োগ, কমিশনারকে পরিকল্পিতভাবে ধারাবাহিক হয়রানি, কর্মকর্তাদের দুদকের ভীতি দেখিয়ে স্বার্থ হাসিল এবং সরকারি কাজে উপর্যুপরি বাধা সৃষ্টি করেছেন।

এ ব্যাপারে বেনাপোল পোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন খাঁন মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামলার বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে।তদন্ত শেষ হলে মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।

কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী বলেন, তদবিরবাজ আহসান আলী এখনও অব্যাহত হুমকী দিয়ে চলেছেন। ফলে কর্মকর্তরা কাজ করতে পারছেন না। পুলিশকে আহসান আলী চাপ দিয়ে চার্জ শিট দিতে বাধাগ্রস্থ করছেন। যিনি এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন তিনি আজও চার্জ শিট দাখিল করতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে গোটা কাস্টমস হাউসে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads







Loading...