কলাপাড়ায় রশি টানা নৌকাই পাঁচ গ্রামের চলাচলের ভরসা

গোফরান পলাশ, কলাপাড়া প্রতিনিধি

কলাপাড়ায় রশি টানা নৌকাই পাঁচ গ্রামের চলাচলের ভরসা
কলাপাড়ায় রশি টানা নৌকাই পাঁচ গ্রামের চলাচলের ভরসা - প্রতিনিধি

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:৩১

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ও ধানখালী ইউনিয়নের অভ্যন্তরীন যোগাযোগে একমাত্র রশি টানা নৌকাই যেন ভরসা। এ দুই ইউনিয়নের দেবপুর-পাঁচজুনিয়া গ্রাম সংলগ্ন দেবপুর খালে একটি সেতুর অভাবে অন্তত: পাঁচ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ দূর্ভোগে পড়েছে। এছাড়া পায়রা বন্দর ও তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত শ্রমিক, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, নারী, শিশু সহ এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে বছরের পর বছর এ রশি টানা নৌকায় পারাপার করছে।

জানা যায়, দেবপুর খালের এপারে পশ্চিম পাঁচজুনিয়া, ওপারে পুর্ব দেবপুর গ্রাম। আর সেই খাল পারাপারের একমাত্র ভরসা ছোট্ট ডিঙি নৌকা। আটজন চলাচল উপযোগী এ নৌকার দুই প্রান্তে বাঁধা দুটি রশি। এরফলে রশি টানতে গিয়ে প্রায়শ:ই ঘটছে দূর্ঘটনা। কিন্তু উপায় না থাকায় ওই রশি টেনেই এপার-ওপার পারাপার হতে হচ্ছে যাত্রীদের।

এছাড়া চম্পাপুর ইউনিয়নের খালের একপাড়ে রয়েছে চম্পাপুর ইউনিয়নের সোমবাড়িয়া বাজার। এ বাজারকে কেন্দ্র করে এপারে গড়ে উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদ, হাসপাতাল, পোস্ট অফিস, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার বেশ কয়েকটি অফিস, বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা। শতশত শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এ খেয়া পার হয়েই তাদের প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। বর্ষা মৌসুমে খালটির পানি বৃদ্ধি পেলেও শুকনো মৌসুমে হাঁটু পানিতে কচুরিপানায় পূর্ণ হয়ে যায় খালটি। এ সময় খেয়া চলাচল হয়ে পড়ে চরম ঝুঁকিপূর্ণ। তখন কলেজ বাজার হয়ে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হয় এলাকাবাসীকে।

এদিকে দেবপুর খালের ওপর দীর্ঘদিন একটি সেতুর অভাবে তিন ফসলি জমির এলাকা দেবপুর, নিশানবাড়ীয়া, চালতাবুনিয়া, ধানখালী, ছৈলাবুনিয়া, পাঁচজুনিয়া গ্রামের কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে ভোগান্তিসহ অতিরিক্ত পরিবহন খরচ বহন করতে হচ্ছে। এতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। এছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় কাজসহ চিকিৎসা সেবা নিতে ঝুঁকিপূর্ণ এ খেয়া পার হতে হয়। এতে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীরা। এমন পরিস্থিতিতে ওই খালের ওপর একটি সেতু নির্মানের দীর্ঘদিনের।

স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানায়, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় দু’পাড়ের মানুষ নৌকায় পারাপার হয়। এলাকাবাসীর উদ্যোগে দেবপুর খালে পারাপারের জন্য একটি নৌকার ব্যবস্থা করা হয়। তবে নৌকা চালানোর জন্য নির্ধারিত কোন মাঝি নেই। দু’পাড়ে নৌকার সঙ্গে বাঁধা রশি টেনে আসা-যাওয়া করে স্কুল শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে খালের পশ্চিমাংশের পাঁচজুনিয়া এলাকায় কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেক বেশি।

দক্ষিন দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসা. মেহেরুন্নেছা বলেন, দক্ষিন দেবপুর থেকে শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী আমাদের স্কুলে এসে প্রতিদিন নিয়মিত ক্লাশ করছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে খালটিতে একটি সেতু নির্মাণ করা জরুরী প্রয়োজন।

চম্পাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রিন্টু তালুকদার বলেন, পাঁচজুনিয়া ও দেবপুর দুই গ্রামের মাঝখানে এই নদী। এখানে একটি ব্রিজ হলে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সহ স্থানীয়রা স্বাচ্ছন্দে চলাচল করতে পারতো।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো: আবদুল মান্নান বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী দেবপুর খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এআইএস






ads