অসুস্থ্ হয়ে পড়ছেন খুলনায় অনশনরত পাটকল শ্রমিকরা

মানবকণ্ঠ
ছবি - প্রতিবেদক।

poisha bazar

  • আলমগীর হান্নান, খুলনা ব্যুরো
  • ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৩০,  আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৩৫

“বোন মৃত্যু দাও, নয়তো মজুরি কমিশন দাও”। পোশাকে এই কথা লিখে অনশন পালন করছেন খুলনার পাটকল শ্রমিকরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই উদ্দেশ্য করে এমন শ্লোগান লিখেছেন বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা।

এদিকে ১১ দফা দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছেন ১০-১২জন শ্রমিক। ইতিমধ্যে তাদেরকে স্যালাইনও দেয়া হয়েছে। শীতের রাতে খোলা স্থানে না খেয়ে অবস্থান করায় এমন অবস্থা হয়েছে তাদের। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে যাবেন না বলে জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান আজ বুধবার জানান বেশি অসুস্থ্ হয়ে পড়া ২ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের ডাকে গত মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) শুরু হওয়া অনশনে বুধবার সকালে দুই শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

খুলনা অঞ্চলে মোট রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের মধ্যে খুলনাতেই রয়েছে সাতটি ও যশোরে দু’টি। খুলনায় থাকা পাটকলগুলো হলো ক্রিসেন্ট জুট মিল, খালিশপুর জুট মিল, দৌলতপুর জুট মিল, প্লাটিনাম জুট মিল, স্টার জুট মিল, আলিম জুট মিল ও ইস্টার্ন জুট মিল। আর যশোরের দু’টি জুট মিল হলো-কার্পেটিং ও জেজেআই।

খলিলুর রহমান বলেন, প্রচণ্ড শীত ও ক্ষুধার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। সমস্যা সমাধানে ঢাকা মঙ্গলবার বৈঠক হলেও তা ফলপ্রসূ না হওয়ায় শ্রমিকরা অনশন অব্যাহত রাখেন। যতই কষ্ট হোক, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।

তিনি জানান, শ্রমিকরা স্ব স্ব মিল গেটের সামনে এ কর্মসূচি পালন করছেন। জুট মিলগুলোতে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক রয়েছেন।

এছাড়া স্টার জুটমিলের শ্রমিক বাবুল, ক্রিসেন্ট জুটমিলের শ্রমিক সুলতান অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সুলতানের স্যালাইন চলছে।

কাঁথা-বালিশ, লেপ, কম্বল নিয়ে আমরণ অনশন পালনকারী খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলের শ্রমিকরা রাত্রিযাপন করেন। শ্রমিকদের এ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তাদের পরিবারের সদস্যরাও। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি থেকে না ফেরার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।

শ্রমিকরা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকে বকেয়া মজুরি পরিশোধ ও মজুরি কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের সিদ্ধান্ত বাতিল ও অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ ও গ্র্যাচুইটির টাকা প্রদানসহ ১১ দফার দাবি জানিয়ে আসছি। দীর্ঘদিন আন্দোলন চললেও এ পযর্ন্ত শ্রমিকদের দাবি পূরণ হয়নি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরণ অনশন কর্মসূচি চলবে।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads






Loading...