মালিককে খুন করে গরু চুরি, গ্রেফতার ৮

মালিককে খুন করে গরু চুরি, গ্রেফতার ৮
মালিককে খুন করে গরু চুরি, গ্রেফতার ৮ - সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৩১,  আপডেট: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৪০

রাজশাহী মহানগরীতে মালিককে খুন করে গরু চুরির ঘটনায় আট জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে তিনজন সরাসরি চুরি ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত।

সোমবার দুপুরে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া জোনের উপকমিশনার (ডিসি) সাজিদ হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

নগরীর রাজপাড়া থানায় এই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। সাজিদ হোসেন জানান, গরুর চুরির ঘটনাটি পরিকল্পিত। চোরদের পরিকল্পনা ছিল, নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে মালিককে অচেতন করে গরু চুরি করবে। কিন্তু এই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় মালিককে হত্যার পরই গরু চুরি করা হয়। পরে সেগুলো বিক্রিও করা হয়েছিল।

গত বুধবার দিবাগত রাতে রাজশাহী মহানগরীর দাসপুকুর মোড়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন আবদুল মজিদ (৬০) নামে এক বৃদ্ধ। দাসপুকুর মোড়ে তার খড়ির দোকান রয়েছে। এই দোকানের পাশে সরকারি জমিতে একটি টিনের ঘর করে গরু-ছাগল পালন করতেন তিনি। সেদিন রাতে তাকে হত্যার পর দুটি গাভী ও দুটি বাছুর চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় মামলা হয়।

তদন্তকালে পুলিশ আট জনকে গ্রেফতার করে। এরা হলেন- নগরীর বহরমপুর এলাকার হামিদুর রহমান বাবু ওরফে খামার বাবু (৩৫), একই এলাকার মো. মিলন (৩৪) ও মো. জিন্দার (৪৮), দাসপুকুর এলাকার আরিফুল ইসলাম (২৮), হড়গ্রাম নতুনপাড়া এলাকার রবিউল ইসলাম (৩৮), পবা উপজেলার উজিরপুর গ্রামের আবুল কাশেম (৪১), আবদুস সামাদ (৫০) এবং আশুরা বেগম (৪৮)।

এদের মধ্যে আবুল কাশেম স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপ) সদস্য। তার বাড়ি থেকেই গরুগুলো উদ্ধার হয়েছে।

পুলিশ বলছে, কাশেমের ভাই মকবুল গরুচোর সিন্ডিকেটের সদস্য। তাকে ধরা যায়নি। তবে তার স্ত্রী আশুরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইউপি সদস্য কাশেমের বাড়িতে চোরাই গরু দেখাশোনা করতেন গ্রেফতার আবদুস সামাদ। গ্রেফতার রবিউল একজন ভুটভুটি চালক। মজিদকে হত্যার পর তার ভুটভুটিতে করেই গরু নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ডিসি সাজিদ হোসেন জানান, জিন্দার ও মিলন নিহত মজিদের খড়ির দোকানে কাজ করতেন। তারাই মূলত আরিফুলকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনার চারদিন আগে মজিদের গরু চুরির পরিকল্পনা করেন।

ঘটনার দিন তারা মজিদকে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে অচেতন করে গরু নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়েও তা সম্ভব না হওয়ায়, মিলন ও জিন্দার মজিদের গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। এতে মৃত্যু না হলে আরিফুল গলায় মাফলার জড়িয়ে মজিদের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর রবিউলের ভুটভুটিতে করে গরু পৌঁছে দেয়া হয় মকবুলের কাছে। মকবুল সেগুলো তার ভাই কাশেমের বাড়িতে রাখেন।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর তারা প্রথমে গরু উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিতে থাকেন কোথায় নতুন চারটি গরু আছে। এভাবে তারা গরু চোর সিন্ডিকেটের সন্ধান পান। পরে গত শনিবার প্রথমে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় গরু। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়া তিনজনকে রোববার গ্রেফতার করা হয়। সবাইকেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ আরো জানিয়েছে, রাজশাহী শহর ও এর আশপাশে ইদানিং যে সমস্ত গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে, এর সঙ্গে এদের যোগসূত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সে জন্য আদালতে তাদের প্রত্যেকেরই রিমান্ডের আবেদন করা হবে। রিমান্ডে নিয়ে তাদের কাছ থেকে তথ্য আদায়ের চেষ্টা করা হবে।

প্রেস ব্রিফিংয়ের আরএমপির বোয়ালিয়া জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আবদুর রশিদ, রাজপাড়া থানার সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) রাকিবুল ইসলাম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসেন খান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মেহেদী হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মানবকণ্ঠ/এআইএস





ads






Loading...