শ্রেণীকক্ষে একা পেয়ে মাদরাসা ছাত্রীর 'গোপনাঙ্গে' হাত!

মানবকণ্ঠ
দৈনিক মানবকণ্ঠ - ছবি : সংগৃহীত

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:১৬,  আপডেট: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:২৮

মাদারীপুরে চতুর্থ শ্রেণির এক মাদরাসা ছাত্রীকে (১১) যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একই মাদরাসার শিক্ষক খাইরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। ঘটনার ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল ও অভিযুক্তর বড় ভাইসহ এলাকার প্রভাবশালীরা।

এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের খামারবাড়ি মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী প্রতিদিনের ন্যায় গত কয়েকদিন আগে মাদরাসায় যায়। একই মাদরাসার শিক্ষক খাইরুজ্জামানের কুদৃষ্টি পরে ওই ছাত্রীর উপর। সময় সুযোগ বুঝে খাইরুজ্জামান ছাত্রীকে শ্রেণী কক্ষে একা পেয়ে জরিয়ে ধরে গোপনাঙ্গসহ স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে হাত দিতে থাকে। এক পর্যায় ছাত্রী আর্তচিৎকার দিতে চাইলে ছাত্রীকে ছেড়ে দেয়। ছাত্রী বাড়ি গিয়ে তার পরিবারকে এ বিষয় জানায়। এ ঘটনায় ছাত্রীর পরিবার মাদরাসার প্রিন্সিপালের কাছে বিচারের দাবি জানায়।

অভিযুক্ত খাইরুজ্জামান ও তার বড় ভাই অত্র মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল সিব্বীর আহম্মেদ এলাকার প্রভাবশালীদের নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার এক সপ্তাহ পরে শনিবার (৭ ডিসেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে তথ্য আসে। খবর পেয়ে কর্মরত সংবাদকর্মীরা ঐ মাদরাসায় অনুসন্ধানে গেলে ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক খাইরুজ্জামানকে মাদরাসায় পাওয়া যায়নি।

মাদরাসার একাধিক শিক্ষক জানান, খাইরুজ্জামান ভাইস প্রিন্সিপালের ছোট ভাই তাই সে যেকোন অপরাধ করলেও তার জন্য সাতখুন মাফ, তার বিচার কেউ করার সাহস পায় না। কেউ যদি প্রতিবাদ করে তাহলে সে ঝামেলায় পড়বে। এর আগেও সে এরকম জঘন্য কাজ করেছে। তার বিচার হয় নাই বলে পুনরায় এই ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে। আমরা সবাই প্রিন্সিপাল স্যারকে বলবো এ বিষয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।

যৌন হয়রানির শিকার ছাত্রীর মা বলেন, মাদরাসার প্রিন্সিপালের কাছে অভিযোগ করেছি। আমার ছোট মেয়ে, বিভিন্ন লোকে বিভিন্ন প্রশ্ন করবে, তাই আমরা মানসম্মানের ভয়ে থানায় অভিযোগ করেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানান, আমরা আমাদের সন্তানদের মানুষ করার জন্য মাদরাসায় লেখাপড়ার জন্য দেই। সেখানে যদি শিক্ষকের কাছে যৌন হয়রানির শিকার হয়। তাহলে আমরা কার ভরসায় মাদরাসায় আমাদের সন্তানদের পাঠাবো। আমরা সবাই অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর বিচার চাই। একই সঙ্গে এ মাদরাসা থেকে তার অব্যাহতি চান অভিভাবকরা। যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।

রোববার এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক খাইরুজ্জামানের বড়ভাই মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল সিব্বীর আহম্মেদের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সততা স্বীকার করে বলেন, আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, এ ব্যাপারে সংবাদ প্রচার করার দরকার নাই। আপনাদের সাথে আমি যোগাযোগ করব।

খামারবাড়ি মাদরাসার প্রিন্সিপাল আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় আমি ছুটিতে ছিলাম। ভাইস প্রিন্সিপাল সিব্বীর আহম্মেদ তখন দায়িত্বে ছিলো, আমি বৃহস্পতিবার প্রথমে শুনি। পরে ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে এ বিষয়ে কথা বলেছি এবং ঐ শিক্ষককে শোকাজ করেছি। মাদরাসার বোড মিটিংয়ে প্রতিষ্ঠানের আইননুযাই শিক্ষক খাইরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ




Loading...
ads






Loading...