সেতুর অভাবে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

শাখাওয়াত হোসেন শওকত, দশমিনা

মানবকণ্ঠ
ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই পারাপার হয় শিক্ষার্থীরা - ছবি: প্রতিনিধি

poisha bazar

  • ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:৫৩,  আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:৫৬

মনি আক্তার। পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের খারিজা বেতাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুলে যেতে প্রতিদিনই তাকে ছোট খেয়ানৌকায় ঝুঁকি দিয়ে নদী পার হতে হয়। এলাকার জমির মৃধা বাজার এলাকার সেতুটি ভেঙে পড়ায় তার এ দুর্ভোগ।

শুধু মনিরার মতো শিক্ষার্থীরাই নয়, তার মতো শত শত শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হয়। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় ইউনিয়নটি দুই ভাগে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

২০১৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর গলাচিপা উপজেলা থেকে দশমিনা যাওয়ার পথে বালুবোঝাই একটি কার্গোর ধাক্কায় সেতুর মাঝখানের অংশ ভেঙে যায়। ওই সময় বালুবোঝাই কার্গোটিও ঘটনাস্থলে ডুবে যায়। প্রায় ৩ বছর হলেও এখনও সেতুটি মেরামত কিংবা নতুন করে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সুতাবড়িয়া শাখানদী। নদীর পূর্ব পারে মরদানা, গরম আলী, জাফরাবাদ, খারিজা বেতাগীর একাংশ ও তফালবাড়িয়ার। পশ্চিম পারে রামবল্লভ, দাবাড়ি, চিংগরিয়া, চন্দ্রাবাজ ও খারিজা বেতাগীসহ ১১ গ্রামের বাসিন্দাদের সহজ যোগাযোগ সংযোগ ছিল জমির মৃধা বাজার এলাকার খারিজা বেতাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সেতুটি।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এই সেতু স্থাপন করতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০ লাখ টাকা। লোহার বিমের ওপর আরসিসি কংক্রিট ঢালাই প্লেট বসানো ১৫০ ফুট লম্বার এই সেতুর মাঝখানে প্রায় ২৫ ফুট অংশ ভেঙে নদীতে পড়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট ডিঙি নৌকায় শিক্ষার্থীরা নদী পার হচ্ছে। তারা নদীর পূর্বপারের বাসিন্দা ও পশ্চিম পারের খারিজা বেতাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নদীর পশ্চিম পারে খারিজা বেতাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ও খারিজা বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কমে গেছে। এখন শিক্ষার্থীরা ছোট খেয়া নৌকায় পারাপার হচ্ছে। এতে সব সময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

এছাড়াও ওই এলাকায় খারিজা বেতাগী নামে কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। সেতুটি ভেঙে পড়ায় সেবা নিতে আসা নারী-শিশু রোগীর সংখ্যা কমে গেছে।

দশমিনা উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আনুষ্ঠানিক কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। দ্রুত নতুন আরসিসি ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/আরবি





ads






Loading...