স্ত্রীর গলায় ছুরি ধরে সাদা কাগজে স্বাক্ষর পুলিশের

স্ত্রীকে নির্যাতন এবং গলায় ছুরি ধরে স্ট্যাম্পসহ সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ায় অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন - সংগৃহীত

poisha bazar

  • মানবকণ্ঠ প্রতিনিধি
  • ০৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩:২৪

লালমনিরহাটে জামিনে মুক্তি পেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন এবং গলায় ছুরি ধরে স্ট্যাম্পসহ সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আল আমিন (৩০) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (০৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় লালমনিরহাটের আদিতমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন আল আমিনের স্ত্রী আরজু বেগম।

পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের কর্ণপুর গ্রামের হানিফ ইসলামের ছেলে। তিনি রংপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সাব জজ ড. আব্দুল মজিদের দেহরক্ষী।

এর আগে ৩০ অক্টোবর পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আল আমিনকে আটক করেছিল সদর থানা পুলিশ। পরদিন বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) ওই প্রেমিকার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেল হাজতে পাঠানো হয়। 

মামলার বিবরণে জানা গেছে, পুলিশ কনস্টেবল আল আমিন (ক নং ১৪১২) ২০১২ সালে আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গোবদা গ্রামের আমিনুল ইসলামের মেয়ে আরজু বেগমকে বিয়ে করেন। আল আমিন তিন লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে দুই লাখ ৯০ হাজার টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়। স্ত্রী-সন্তান রেখে লালমনিরহাট শহরের বসুন্ধরা এলাকায় এক বিজিবি সদস্যের স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়েন আল আমিন। তার প্রেমে বিজিবি সদস্য স্বামীকে তালাক প্রদান করেন আল আমিনের প্রেমিকা। এরপর পরকীয়া প্রেমিকাকে বিয়ে করতে টালবাহনা করেন তিনি।

গত ২৯ অক্টোবর ছুটিতে বাড়ি এসে পরকীয়া প্রেমিকার বাড়িতে যান আল আমিন। ওই দিন রাতে স্থানীয়রা পরকীয়া প্রেমিকার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় তাকে আটক করে লালমনিরহাট সদর থানায় সোপর্দ করে। পরদিন পরকীয়া প্রেমিকার দায়ের করা মামলায়  তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সদর থানা পুলিশ জেল হাজতে পাঠায়।

গত ২১ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পেয়ে বাবার বাড়িতে থাকা স্ত্রী আরজুকে পাশের একটি মাদরাসায় কৌশলে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে গলায় ছুরি ধরে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পসহ সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়। এসময় আল আমিন ও তার সহযোগীদের আঘাতে কানে মারাত্মক আঘাত পান আরজু বেগম। পরে স্থানীয়রা আরজু বেগমকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় স্ত্রী আরজু বেগম গত ২৮ নভেম্বর আল আমিনসহ চার জনের বিরুদ্ধে আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ মঙ্গলবার (০৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।

আরজু বেগম বলেন, মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর চায় আল আমিন। না দিলে লাঠি দিয়ে মারপিট করে গলায় ছুরি ধরে স্বাক্ষর নেয়। এখন থানায় অভিযোগ দেওয়ায় পুরো পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে আল আমিন। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাই মামলা নিতেও বিলম্ব করে থানা। এখন পুরো পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তারা।

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম  বলেন, মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে গ্রেপ্তার করার মত হলে অবশ্যই আল আমিনকে গ্রেফতার করা হবে।

 

মানবকণ্ঠ/এসআর




Loading...
ads





Loading...