মনোহরদীতে রাষ্টীয় মর্যাদা ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন, দুই পুলিশ প্রত্যাহার

মনোহরদীতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেমকে দাফন করা হয় - সংগৃহীত

poisha bazar

  • মানবকণ্ঠ প্রতিনিধি
  • ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩:৩৬

নরসিংদীর মনোহরদীতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই এক মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মনোহরদী থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) মাসুদ রানা ও সহকারী উপ-পরিদর্শক (এ এস আই) বজলুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সোমবার (০২ ডিসম্বের) দুপুরে মনোহরদীর চরমান্দালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেমকে (৭৫) থানা পুলিশের দায়িত্বহীনতায় বাধ্য হয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন করা হয় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

চরমান্দালিয়া ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শহিদুল্লাহ মিয়া ও এলাকাবাসী জানান, রোববার (০১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম মারা যান। মারা যাওয়ার পর চরমান্দালিয়া ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শহিদুল্লাহ বিষয়টি মনোহরদী উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মতিউর রহমান তারাকে অবহিত করেন। পরে মতিউর রহমান তারা বিষয়টি মনোহরদী থানায় অবহিত করেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে পরদিন সোমবার সকাল ১০ টায় জানাজার নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়। এই বিষয়টি মনোহরদী থানায় অবগত করার পর তাদের পরামর্শক্রমে জানাজার নামাজের সময় এক ঘন্টা পিছিয়ে বেলা ১১ টায় নির্ধারণ করা হয়।

সোমবার সকাল ১০ টায় মুক্তিযোদ্ধার লাশ জানাজার জন্য নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের পূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি জানাজায় উপস্থিত হন। এসময় নিয়ম অনুসারে মরহুমের লাশ জাতীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। নামাজের জানাজার পূর্বে সাধারণ সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিয়ম অনুসারে পুলিশ কর্তৃক বিউগল বাঁশি বাজানো, রাষ্ট্রিয় সালাম প্রদান এবং এক মিনিট নিরবতা পালন করার কথা।

কিন্তু জানাজার নামাজের সময় হয়ে গেলেও বিউগল বাঁশি ছাড়াই দুজন পুলিশ সদস্য নামাজের জানাজার স্থলে হাজির হলেও তারা নিরব দর্শকের মত দূরে দাঁড়িয়ে থাকেন। এসময় থানায় যোগাযোগ করা হলে তারা আসতেছে বলে জানানো হয়।


এদিকে জানাজার জন্য নির্ধারিত সময়ের আধা ঘন্টা অতিবাহিত হলেও থানা থেকে অন্য কেউ জানাজার নামাজের স্থলে উপস্থিত হয়নি। পরে সাড়ে ১১ টায় জানাজা পড়ে ১২ টার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেমকে দাফন করা হয়।


এই বিষয়ে মনোহরদী উপজেলার সাবেক মুাক্তযোদ্ধা কমান্ডার মতিউর রহমান তারা বলেন, বারবার থানায় বিষয়টি অবহিত করার পরও তাদের এমন দায়িত্ব জ্ঞানহীন কাজ অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করার শামিল।

এ বিষয়ে মনোহরদী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, এই ঘটনায় এস আই মাসুদ রানা ও এ এস আই বজলুর রহমান কে প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

 

মানবকণ্ঠ/এসআর




Loading...
ads





Loading...