যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা

শরণখোলায় রায়েন্দা খালের সেতু যেন মরণফাঁদ

সাবেরা ঝর্ণা, শরণখোলা

মানবকণ্ঠ
ছবি - প্রতিবেদক।

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:৪৭,  আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৩:০৭

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্র রায়েন্দা বাজারের জনগুত্বপূর্ণ রায়েন্দা খালের ২৪২ ফুট দীর্ঘ সেতুটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এলজিইডি’র নির্মিত লোহার পিলারগুলোর অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। প্রায় ২২ বছর আগে নির্মিত এ সেতুতে লোক উঠলেই শুরু হয় কম্পন। প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু দিয়ে দুই পারের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা চলাচল করলেও তা মেরামত বা নতুন সেতু নির্মাণের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না। যেকোনো মুহূর্তে সেতু ধসে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে বিভিন্ন মহল। এ সেতুটি মাঝখানে ৪০ ফুট দূরত্বে স্টান দেওয়ায় নিয়ম থাকলেও ৫৫ ফুট দূরত্বে দেওয়ায় বেশি সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুটি নতুন করে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী সহ বিভিন্ন মহল।

শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা খালের ওপর ১৯৯৭ সালে এলজিইডি’র লোকস্ট প্রকল্পের মাধ্যমে মাত্র ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে লোহার কাঠামো এবং উপরে আরসিসি ঢালাইয়ে নির্মিত হয় এই সেতুটি। সেতুটির দক্ষিণ পারে উপজেলার প্রধান শহর রায়েন্দা বাজার। এখানে রয়েছে রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাইস্কুল, আরকেডিএস বালিকা বিদ্যালয়, রায়েন্দা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আইডিয়াল ইনস্টিটিউট, ভাসানী কিন্ডার গার্টেন স্কুল এবং রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, থানা, পোস্ট অফিস, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ, সরকারি খাদ্য গুদাম, চারটি ব্যাংকসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। অপরদিকে, উত্তর প্রান্তে খোন্তাকাটা ইউনিয়ন। এখানে রয়েছে শরণখোলা সরকারি কলেজ, রায়েন্দা রাজৈর ফাজিল মাদরাসা, চারটি বরফ কলসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান। দুই ইউনিয়নের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থীসহ কর্মজীবীরা প্রতিদিন এই সেতু দিয়েই যাওয়া-আসা করে থাকেন। তাছাড়া সেতুর নিচ থেকে খাদ্য গুদামের কার্গো জাহাজ, শত শত ফিশিং বোট ও অন্যান্য নৌযান চলাচল করতে গিয়ে ধাক্কা লেগে সেতুর লোহার কাঠামো ভেঙে এলোমেলো হয়ে গেছে। ক্ষয় হয়ে গেছে অধিকাংশ পিলারের গোড়া। সেতুটি এখন পরিত্যাক্ত সেতুতে পরিণত হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও শরণখোলা সরকারী কলেজের অধ্যাপক সাব্বির আহম্মেদ মুক্তা মানবকণ্ঠকে বলেন, এমএস পাইপ দিয়ে দীর্ঘতম এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। যে কারণে এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় যাতায়াতের সময় দুলছে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন এ সেতুটি। তাছাড়া বিভিন্ন সময় জাতীয় প্রোগ্রামগুলোতে অনেক শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ মিছিল নিয়ে আসা-যাওয়া করে। এ সেতুর বর্তমান যে অবস্থা তাতে যেকোন বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জরুরি ভিত্তিতে জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটি নির্মাণ হওয়া প্রয়োজন।

রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. সুলতান আহমেদ গাজী জানান, সেতুটির বর্তমান যে অবস্থা তাতে ছেলে-মেয়েরা পার হতে ভয় পায়। লোকজন উঠলেই সেতুটি দুলতে থাকে। এ সমস্যা একাধিকবার উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা মিটিং-এ উত্থাপন করেছি। সেতুটি দ্রুত নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শরণখোলার একজন বিশিষ্ট ঠিকাদার জানান, ২৪২ ফুট দীর্ঘ এ সেতুটি মাঝখানে ৪০ ফুট দূরত্বে স্টান দেওয়ার নিয়ম থাকলেও খাদ্য গুদামের কারণে নৌ-যান বাহনের সুবিধার জন্য ৫৫ ফুট দূরত্বে দেওয়ায় বেশি সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা প্রকৌশলী চন্দন কুমার চক্রবর্তী মানবকণ্ঠকে বলেন, ৭৪ মিটার (২৪২.৭৮২ ফুট) সেতুটি নির্মাণের জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সেতুটি নির্মাণের জন্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কামাল উদ্দিন বলেন, খরস্রোতা রায়েন্দা খাল এক সময় খেয়া নৌকায় পারাপার করতে হতো। এলাকাবাসীর সুবিধার জন্য প্রায় ২১ বছর পূর্বে এ সেতুটি নির্মাণের পর দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের পারাপার অনেক সহজ করে দিয়েছে। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর তারা বিষয়টি আমলে নিয়ে সরেজমিন পরিদর্শনে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছেন। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে সেতুটি নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাই।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...