টিআর প্রকল্পের টাকা পিআইও-এমপির স্বজনদের পকেটে!

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:৫০,  আপডেট: ০১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:৫৪

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচি আওতায় ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের ১ম পর্যায়ের প্রকল্পের অর্থ হরিলুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এডিবিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কাজ হয়ে যাওয়া প্রকল্পগুলোকে নতুন করে টিআরের বিশেষ অর্থ বরাদ্দে নাম সর্বস্ব প্রকল্প দেখিয়ে সরকারি অর্থ লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে । সরকারি নীতিমালায় টিয়ার বরাদ্দের ১ মাসের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ করার কথা থাকলেও বিল উত্তোলনের ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পগুলোতে কোনো কাজ হয়নি।

অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নূর মামুন ও স্থানীয় সাংসদের স্বজনদের যোগসাজসে প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পূর্ণ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ার করে নিয়েছেন।

চলতি বছরের ৬ মার্চ তাড়াশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নূর মামুন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফ্ফাত জাহান এবং অধ্যাপক আব্দুল আজিজ এমপির স্বাক্ষরিত তালিকা সূত্রে জানা যায়, টিআর ৪৩টি প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয় । তবে এ সব প্রকল্পের বেশির ভাগ নামসর্বস্ব প্রকল্প ও এডিবিসহ অন্যান্য বরাদ্দের উন্নয়নকৃত প্রকল্প কাগজপত্রে হিসাব দেখিয়ে টিআর অর্থ লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উটেছে। নথিতে প্রকল্পের নাম থাকলেও বাস্তবে কোনো প্রকল্পের কাজ দেখতে পাওয়া যায়নি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিআর প্রকল্পে জাহাঙ্গীর গাঁতী দেলবারের বাড়ি হতে কবরস্থান পর্যন্ত রাস্তা মেরামতে ৫০ হাজার টাকা, তাড়াশ রানীহাট রাস্তা সংলগ্ন বিনসাড়া আতাউরের বাড়ি হতে আলহাজ গাজী সাইদুর রহমানের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামতে ৫০ হাজার টাকা, পালাশী মাদরাসা ভরাটে ৫০ হাজার টাকা, কাজিপুর পূর্বপাড়া শাহেব আলীর বাড়ি হতে লইম উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামতে ৫০ হাজার টাকা, বিনসাড়া-কুসুম্বি পাকা রাস্তায় লালমিয়ার বাড়ি হতে ঝিনাই গাড়ির পার পর্যন্ত রাস্তা মেরামতে ৫০ হাজার টাকা, কুসুম্বি আয়সা নাজাতুল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজ উন্নয়নে ৫০ হাজার টাকাসহ ৪৩টি প্রকল্পে টিয়ারের অর্থ বরাদ্দ দেওয়া থাকলেও বাস্তবে কোনো প্রকার কাজ হয়নি।

বিনসাড়া গ্রামের আতাউরের বাড়ি হতে আলহাজ গাজী সাইদুর রহমানের বাড়ি পর্যন্ন রাস্তা মেরামত সম্পূর্ণ দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা বিল উত্তোলন করলেও সেখানে কোনো কাজই হয়নি।

রাস্তাটির বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিনসাড়া ওয়ার্ড সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, বিগত ৫ বছরের মধ্যেও এ রাস্তায় কোনো মাটি বা মেরামতের কাজ হয়নি। শুনেছি এমপি মহোদয় রাস্তাটির মেরামতের জন্য টিআর প্রকল্প দিয়েছেন। কিন্তু কে টাকা তুলেছে তা আমাদের জানা নেই। একই গ্রামের কুদ্দুস, জফের আলী, রবিউল ও ইব্রাহিম বলেন, রাস্তাটি আমাদের খুবই জরুরী।

জাহাঙ্গীরগাঁতী গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা আরিফুল ইসলাম বলেন, দেলবারের বাড়ি হতে কবরস্থান পর্যন্ত রাস্তা মেরামতে এ বছর কাজ করা তো দূরের কথা ২-৩ বছরের মধ্যে এ রাস্তায় কোনো প্রকার কাজ হয় নাই। অপর দিকে কাজিপুর পূর্বপাড়া শাহেব আলীর বাড়ি হতে লইম উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামতে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ ও উত্তোলন কাগজে দেখা গেলেও কোনো কাজের চিহৃ মাত্র দেখা যায়নি। কুসুম্বি আয়সা নাজাতুল্লাহ স্কুল এন্ড কলেজের কতৃপক্ষ বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ আছে শুনেছি তবে এখনো কোনো টাকা হাতে পাইনি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা নূর মামুন বলেন, সকল প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কাজে তদারকি করে সভাপতিকে বিল প্রদান করা হয়েছে। এমপির ভাই আবু সাইদকে আপনাদের সঙ্গে বসার কথা ছিল। আপনারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ওবায়দুল্লাহ বলেন, ওই সময় আমি দায়িত্বে ছিলাম না। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফ্ফাত জাহান বলেন, প্রথম কিস্তির কাজ সমাপ্ত ও কাজ সন্তোষজনক মর্মে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার প্রস্তাবের ভিত্তিতে ২য় কিস্তির বরাদ্দ ছাড় করা হয়। তবে কাজের মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মানবকণ্ঠ/আরবি






ads