রাউজানে লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত তিন সহস্রাধিক গরু

এম.কামাল উদ্দিন, রাউজান

মানবকণ্ঠ
ছবি - প্রতিনিধি

poisha bazar

  • ৩০ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:০৩

রাউজানে পড়েছে লাম্পি স্কিন রোগ (এলএসডি)। গত এক মাসে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে উপজলার প্রায় ৩ হাজার গরু। এ রোগে গরু মারা গিয়েছে এ রকম তথ্য উপজেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয়ে নেই। খবর পাওয়া যায় গত সোমবার রাতে উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের পটিয়া পাড়ায় এক গৃহস্থালির একটি গরু মারা যায়। এদিকে, রোগটির ঠিকা ও সঠিক ওষুধ না উৎকণ্ঠায় আছে খামারি ও গৃহস্থালিরা।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকায় খামারির সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩০০। এসব খামারে ও গৃহস্থালি মিলে গরুর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার। এর মধ্যে প্রায় ৩ হাজারের বেশি গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত । তবে খামারিরা বলছেন, আক্রান্ত গরুর সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি হবে।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয় সূত্রে আরো জানা যায়, রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত গরুর সংখ্যা সামনের শীতে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এটি ভাইরাসজনিত একটি রোগ। মশা-মাছি ও কিট পতঙ্গের মাধ্যমে গরুর শরীরের ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগে আক্রান্ত গরুর শরীরের তাপমাত্রা ১০৩-১০৫ ডিগ্রিতে বেড়ে যায়। গরু খাওয়া বন্ধ করে দেয়। শরীরের বসন্তের মতো গুটি ও চামড়া খসে পড়ে মাংস দেখা যায়।

বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে খামারি ও গৃহস্থালীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়. গত একমাস থেকে এ রোগের প্রকোপ দেখা দেয় বিভিন্ন স্থানে। সরেজমিন ঘুরে উপজেলার হলদিয়া, ডাবুয়া, চিকদাইর, গহিরা, নোয়াজিশপুর, পৌর এলাকা, রাউজান সদর, বিনাজুরী, কদলপুর, পাহাড়তলী, পূর্ব গুজরা, পশ্চিম গুজরা, উরকিরচর, নোয়াপাড়া, বাগোয়ান ইউনিয়নের খামার ও গৃহস্থালির পালা গরুতে এ রোগের চিত্র দেখা যায়।

বাজারের জেবিএম ভেটেরিনারি ফার্মেসিগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, গ্রাহক ভীড় করছে ঔষধ নিতে। তাদের মালিকানাধীন সবার গরুর লাম্পি স্কিন রোগ হয়েছে।

পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের মুহাম্মদীয়া ডেয়রি ফার্মে গিয়ে দেখা যায়, এই খামারে দুধের গাভীর সংখ্যা ৩০টি। এরমধ্যে ৭টি দুধের গাভী লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত হয়েছে।

মালিক রাজ্জাকুল আলম বলেন, গত ১৫ দিন আগে তার খামারের ৪টি গাভীর এ রোগ দেখা দেয়। গত ৪দিন আগে আরও ৩টি গাভীরও একই রোগ হয়। তিনি জানান, নিজ উদ্যােগে এ রোগের চিকিৎসা দিচ্ছেন তিনি।

উপজেলায় চিকিৎসা দেওয়া বেসরকারি চিকিৎসক ভেটেরিনারি কনসালটেন্ট মুরশিদুল আলম চৌধুরী বলেন, রোগটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। রাউজানে শতাধিক লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা দিয়েছেন তিনি।

রাউজান উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, এ রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। তিনিসহ তার কার্যালয়ের পশু বিশেষজ্ঞরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন রোগটি নিরাময়ে চিকিৎসা দিতে।

তিনি জানান, উপজেলার ২ থেকে ৩ হাজার গরুর এ রোগ হয়েছে। সামনের শীতে আরও ব্যাপক আকারে ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।

মানবকণ্ঠ/আরবি





ads






Loading...