নৌযান ধর্মঘটে অচল খুলনা-মোংলা বন্দর

নৌযান ধর্মঘটে অচল খুলনা-মোংলা বন্দর
নৌযান ধর্মঘটে অচল খুলনা-মোংলা বন্দর - প্রতিনিধি

poisha bazar

  • আলমগীর হান্নান, খুলনা ব্যুরো
  • ৩০ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৫৬

দেশব্যাপী নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘটে খুলনা লে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে খুলনা ও মোংলা বন্দরে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ হয়ে গেছে।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে ১১দফা দাবি আদায়ের জন্য নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন এ ধর্মঘট শুরু করেন শ্রমিকরা। এদিকে নৌ-পরিবহ ধর্মঘটের দোহাই দিয়ে বাজারে নিত্য পণ্যের দামও বেড়ে গেছে।

অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘট শুরুর পর থেকে খুলনার বিআইডব্লিউটিএ’র ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট এবং রুজভেল্ট জেটিতে অবস্থানরত কোনো জাহাজ কার্গো থেকে পণ্য খালাস হয়নি। এ ছাড়া খুলনা বিআইডব্লিউটিএ ল ঘাট থেকে কোনো নৌযান চলাচল করেনি। মংলা বন্দর থেকে যশোরের নওয়াপাড়া বাণিজ্য কেন্দ্র পর্যন্ত কোথাও কোনো নৌযান চলেনি। ফলে এসব ঘাটে ছোট-বড় সহস্রাধিক নৌযান নোঙ্গর ফেলে অবস্থান করছে পণ্য ওঠানামার জন্য।

জানা গেছে, খুলনা ও যশোরের নওয়াপাড়ার কার্গো বার্জ থেকে পণ্য নেওয়ার জন্য শত শত ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকলেও নৌযান শ্রমিকরা কাজ না করায় শিল্প নগরী খুলনা ও মোংলা বন্দরে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মঘটের ফলে মাদার ভ্যাসেল থেকে পন্য বন্দরের জেটিতে আনা নেওয়া এবং বন্দর থেকে নদী পথে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে পরিবহন বন্ধ রয়েছে।

এদিকে ধর্মঘটের ফলে নিত্যপণ্যের বাজারেও তার ছোয়া লেগেছে। মালামাল আনানেয়া হচ্ছে না এমন খোড়া অজুহাত দেখিয়ে আলু, পেয়াজসহ অন্যান্য পণ্যের দাম কেজি প্রতি আরও ৫ থেকে ১০ টাকা বৃদ্ধি করেছে ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের খুলনা জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, কেন্দ্রের ডাকা ধর্মঘট খুলনা ও মোংলায় সর্বাত্বকভাবে পালিত হচ্ছে। নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘট শুরু হওয়ায় শিল্পনগরী খুলনা ও মোংলা বন্দরে অবস্থানরত সব ধরনের দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের পণ্যবোঝাই-খালাস ও পরিবহন কাজ বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া খুলনা ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আজ শনিবার সকালে খুলনার ঘাট এলাকায় মিছিল করেছেন শ্রমিকরা। দাবি না আদায় হওয়া পর্যন্ত এ ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন বলেন, আজ শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৮টার পর থেকে মংলা বন্দরের সকল প্রকার নৌ শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখেছে। লাইটারেজ, কার্গো, বার্জ, অয়েল ট্যাঙ্কার, কোস্টার থেকে শুরু করে সব ধরনের জাহাজী নৌযানের শ্রমিকরা এক যোগে এই ধর্মঘট পালন করছেন তারা। ফলে বন্দরে জাহাজ থেকে পন্য ওঠানামা এবং দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে নদী পথে চলাচল সম্পূর্ন বন্ধ রয়েছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) মধ্যরাত থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারাদেশে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন নৌযান শ্রমিকরা। ১১ দফা দাবি আদায়ে এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি চলবে।

শ্রমিক ফেডারেশনের ১১ দফা দাবিগুলো হলো; বাল্কহেডসহ সব নৌযান ও নৌপথে চাঁদাবাজি, ডাকাতি বন্ধ করা। ২০১৬ সালে ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী নৌযানের সর্বস্তরের শ্রমিকদের বেতন প্রদান। ভারতগামী শ্রমিকদের ল্যান্ডিং পাস এবং মালিক কর্তৃক খাদ্য ভাতা প্রদান। ৪. সব নৌযান শ্রমিকদের সমুদ্র ও রাত্রিকালীন ভাতা নির্ধারণ। এনড্রোস, ইনচার্জ, টেকনিক্যাল ভাতা পুনর্র্নিধারণ। কর্মস্থলে দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ। প্রত্যেক নৌশ্রমিককে মালিক কর্তৃক নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বুক প্রদান। ৮. নদীর নাব্য রক্ষা ও প্রয়োজনীয় মার্কা, বয়া ও বাতি স্থাপন। মাস্টার/ড্রাইভার পরীক্ষা, সনদ বিতরণ ও সনদ নবায়ন, বেআইনি নৌ চলাচল বন্ধ করা। নৌপরিবহন অধিদফতরে সব ধরনের অনিয়ম ও শ্রমিক হয়রানি বন্ধ এবং নৌযান শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

মানবকণ্ঠ/এআইএস






ads
ads