অবশেষে কলাপাড়ার সম্মেলনে সভাপতিত্ব করলেন সাবেক এমপি মাহবুব!

মানবকণ্ঠ
ছবি - প্রতিবেদক।

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২৭ নভেম্বর ২০১৯, ১৯:৫২

নানা জল্পনা-কল্পনা, বাধা-বিপত্তির অবসান ঘটিয়ে আ’লীগের হাই কমান্ডের নির্দেশনা ও পটুয়াখালী জেলা আ’লীগের উদ্যোগে কলাপাড়া উপজেলা আ’লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করলের সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মো: মাহবুবুর রহমান। বুধবার (২৭নভেম্বর) স্থানীয় শহীদ মিনার চত্বরে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনের শুরুতে জেলা নেতৃবৃন্দের সাথে সাবেক সাংসদ মাহবুব স্বস্ত্রীক সম্মেলনস্থলে এলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বর্তমান সাংসদ মহিব্বুর রহমানের অনুসারী নেতা-কর্মীদের মধ্যে। এসময় 'কলাপাড়ার মাটি মহিব্বুর রহমানের ঘাঁটি' বলে স্লোগান তোলে মহিব অনুসারী নেতা-কর্মীরা। পরে পুলিশ ও জেলা নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে মাহবুবুর রহমান সভাপতির আসন গ্রহণ করেন। এরপর উপজেলা আ’লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় সংসদের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও জেলা আ’লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংসদ অধ্যক্ষ মো: মহিব্বুর রহমান, জেলা আ’লীগের সম্পাদক কাজী আলমগীর হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মন্নান, অ্যাডভোকেট গোলাম সরোয়ার, পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দীন আহমেদ, জেলা আ’লীগ নেতা সুলতান আহমেদ মৃধা প্রমূখ।

উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মঞ্জুরুল আলম ও মঞ্জুরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম রাকিবুল আহসান। এসময় সাংগঠনিক বক্তৃতার পাশাপাশি দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের অকাল প্রয়াণে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

সম্মেলনের ২য় অধিবেশন বিকেলে শেখ কামাল কমপ্লেক্স অডিটরিয়ামে শুরু হয়। এতে সভাপতি, সম্পাদক পদে বর্তমান সাংসদ ও সাবেক সাংসদ সহ একাধিক প্রার্থী হওয়ায় কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে দলের নেতা নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এর আগে ২৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় সাবেক সাংসদ মাহবুব স্বস্ত্রীক তার ছোট ভাই সাবেক এনএসআই পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো: হাবিবুর রহমানকে নিয়ে শহরের কুমারপট্রিস্থ বাসায় এলে কতিপয় দৃর্বৃত্ত তার বাসায় হামলা সহ আতংক ছড়াতে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। এসময় তারা তাকে এলাকা ছেড়ে যেতে বিভিন্ন ধরনের উস্কানিমূলক স্লোগান দেয়। ঘটনার পর পর কলাপাড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহম্মেদ আলী, ওসি মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন এবং নিরাপত্তার জন্য সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এ ঘটনায় কলাপাড়া থানায় জিডি করে মাহবুবের পরিবার।

এছাড়া গত ক’দিন ধরে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কলাপাড়ায় মাহবুবের আগমনের খবরে বর্তমান সাংসদের অনুসারীরা শহরে বিক্ষুব্ধ মিছিল করে। এসব মিছিলে 'দূর্নীতিবাজ তুমি যেই হও, এলাকা ছেড়ে যাও' বলে শ্লোগান দেয়া হয়। দলীয় সম্মেলনে বর্তমান সভাপতি মাহবুবকে বাদ দিয়ে সুলতান মাহমুদ সভাপতিত্ব করবেন বলে দাওয়াত কার্ড ছাপিয়ে বিলি করা সহ মাইকিং করে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়।

প্রসঙ্গত, দলের তিন তিন বার নির্বাচিত এমপি ও বর্তমান সভাপতি মাহবুবুর রহমান দলের নেতা-কর্মীদের কোণঠাসা করে রেখে জুকু-খালিদ, সুজন ক্যাডার গ্রুপ সৃষ্টি সহ তার ঘনিষ্ঠ অত্মীয় স্বজনদের নিয়ে বিতর্কিত গঙ্গামতি এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদারী ফার্ম গড়ে তুলে শত কোটি টাকার ঠিকাদারী কাজ করে ওই আত্মীয় স্বজন সহ কোটিপতি বনে যান। এরপর জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের দায়ে দুদকের জালে জড়িয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হলে মনোনয়ন লাভ করেন তার ফুপাতো ভাই অধ্যক্ষ মহিব্বুর রহমান। এরপর পাল্টে যেতে থাকে রাজনীতির দৃশ্যপট। ওই আত্মীয়স্বজন সহ অনুসারী নেতা-কর্মী, ক্যাডাররা খোলস পাল্টে ফের ভিড় করে বর্তমান এমপির শিবিরে। এতে বিপাকে পড়েন মাহবুব। দলীয় অফিসেও নিষিদ্ধ করা হয় তাকে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে



poisha bazar

ads
ads