বাউফলে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে বিভক্ত আওয়ামী লীগ

জসীম উদ্দিন, বাউফল (পটুয়াখালী)

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ২৪ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:০৮,  আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৫৪

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের উত্তেজনা বিরাজ করছে। ২৮ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় একই সময় আলাদা স্থানে সম্মেলনের ডাক দিয়েছে দু’পক্ষ।

জানা গেছে, দু’পক্ষই আসন্ন সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন ভিত্তিক কমিটি গঠন করছেন। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল। অপর পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় এমপি আ.স.ম ফিরোজ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে উভয় গ্রুপই ভিন্ন ভিন্নভাবে ইউনিয়ন কমিটি করছেন। আর চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের ভিন্ন দলীয় কার্যালয় রয়েছে। দুই পক্ষই আলাদা আলাদা জাতীয় ও দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছে।

কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে দু’পক্ষের নেতাকর্মীদের নামে প্রায় অর্ধশতাধিক মামলা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উভয় পক্ষের কয়েকজন নেতা জানান, একই দিনে দু’পক্ষের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করায় তারা আতঙ্কিত। এ সম্মেলনকে ঘিরে যেকোনো সময় সংঘর্ষ হতে পারে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জসীম উদ্দিন ফরাজী বলেন, বিশৃঙ্খলা পরিবেশ তৈরি করার জন্য স্থানীয় এমপি গায়ের জোরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী ও মুক্তিযোদ্ধার স্বপক্ষে আমাদের কয়েক শ’ প্রবীণ নেতাকর্মীকে বাদ দিয়ে নিজের পছন্দের লোকদের নিয়ে ইউনিয়ন কমিটি করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন করার ঘোষণা দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে আমরা প্রবীণ ও দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েলের নেতৃত্বে সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিয়েছি।

এ ব্যাপারে বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, আমরা ইউনিয়ন কাউন্সিলেও সকল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দাওয়াত দিয়েছি এবং আসন্ন উপজেলা কাউন্সিলেও দাওয়াত পাবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাউফল পৌরসভার মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল বলেন. এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাসিম জেলা নেতৃবৃন্দকে সমন্বয় করার জন্য বলেছেন। সমন্বয় না হলে ভিন্ন কাউন্সিল হতে পারে।

পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) কাজী আলমগীর হোসেন বলেন, বাউফলে আ.স.ম ফিরোজ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আব্দুল মোতালেব হাওলাদার সাধারণ সম্পাদক তাদের দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউন্সিল করার এখতিয়ার আছে। অন্য কোনো গ্রুপ বা কাউন্সিল সম্পর্কে আমার জানা নেই।

মানবকণ্ঠ/আরবি






ads