নাগরপুরে ছাত্রীকে ‘দেহ ব্যবসায়ী’ বানানো পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার কপি। - সংগৃহীত

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২১ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৪৩

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় তথ্য লোপাট, প্রতারণা, মিথ্যা তথ্য প্রদান, মানহানি ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

মামলার আসামিরা হলেন- নাগপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম, ধুবড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান মতি, নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম রঙ্গু, ধুবড়িয়া ছেফাতুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহাবুল আলম দুলাল ও ধুবড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুর রহমান শাকিল।


গত ১৯ নভেম্বর উপজেলার ধুবড়িয়া গ্রামের সাহাবুদ্দিন নাগরপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ৩০ ডিসেম্বর এর মধ্যে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেছেন।


মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১২ জুলাই ২০১৮ উপজেলার সারটিয়াগাজি গ্রামের জবেদারের ছেলে জুয়েল কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে ৩ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে। অভিযুক্ত জুয়েল  নাগরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়ামের কর্মচারী।


এ ঘটনার পর ওই ছাত্রীর বাবা উইলিয়ামের সঙ্গে তার বাড়িতে দেখা করে এর প্রতিকার চান। উইলিয়াম এ ঘটনার প্রতিকার না করে ছাত্রীর বাবাকে বলে দেন, এরকম ঘটনা হয়েই থাকে। তুমি এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করিও না, করলে সুবিধা করতে পারবে না। 


অন্যদিকে উইলিয়ামের প্রভাবে নাগরপুর থানা পুলিশ ধর্ষণের মামলা গ্রহণ করেনি বলে জানা যায়। নিরুপায় হয়ে কলেজ ছাত্রীর বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, টাঙ্গাইল আদালতে মামলা করেন। পরে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আসামিরা বাদীকে একের পর এক হুমকি দিয়ে আসে।


এদিকে আসামিদের মামলা থেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য আওয়ামী লীগ নেতারা পরস্পর যোগসাজসে ধুবড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তার প্যাডে ধর্ষণের বিষয়টিকে ধামাচাপা দিয়ে উল্টো ভু্ক্তভোগী ওই কলেজ ছাত্রীকে দেহ ব্যবসায়ী ও মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে আসামিদের পক্ষে আদালতে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এছাড়া, হ্যান্ডবিল ও পোস্টার ছাপিয়ে বিলি করে। 


অভিযুক্ত জুয়েল রানা আওয়ামী লীগ সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়ামের কর্মচারী ও অনুসারী হওয়ায় তাকে মামলা থেকে রেহাই দিতে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর পরিবারকে ব্যাপক চাপ প্রয়োগ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এছাড়াও প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে বাদীকে বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদের অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে ।


এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জাকিরুল ইসলাম উইলিয়াম বলেন, ‘সমাজে আমার সম্মান ক্ষুণ্ণ করার জন্য এই মামলা করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

 

মানবকণ্ঠ/এসআর




Loading...
ads





Loading...