তেরখাদা হত্যাকাণ্ড: মীমাংসার চেষ্টা উপজেলা চেয়ারম্যানের

তেরখাদা হত্যাকাণ্ড: মীমাংসার চেষ্টা উপজেলা চেয়ারম্যানের
খুলনা মানচিত্র - ফাইল ফটো

poisha bazar

  • আলমগীর হান্নান, খুলনা ব্যুরো
  • ২১ নভেম্বর ২০১৯, ২১:০৬,  আপডেট: ২১ নভেম্বর ২০১৯, ২১:০৮

তেরখাদা উপজেলার নাচুনিয়া বাজারে ডাকাত সন্দেহে বেধড়ক মারপিটের শিকার হয়ে নিহত তিন সন্তানের জনক পাচু হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, নিহত পাচু মোল্লা ভালো লোক ছিলো না। তার সন্তান ও পরিবারকে রক্ষা করতেই এই ধরনের সহযোগীতার চেষ্টা চলছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৫ দিন আগে তেরখাদা উপজেলার নাচুনিয়া বাজারে পিটিয়ে আহত করা হয় কাছিকাটা গ্রামের আহমদ মোল্লার ছেলে পাচু মোল্লাকে। গুরুত্বর আহতাবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৭ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়।

পাচু মোল্লার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনার পর যারা পাচু মোল্লাকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করে তারা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

পাচু মারা যাবার পর থেকে এখনও পর্যন্ত থানায় কোন মামলা দায়ের হয়নি।

সূত্র জানায়, পাচু হত্যার বিষয়ে তার চাচাতো চাচা সাবেক মেম্বর নজরুল মোল্লা বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার দিনভর মামলা যাতে না হয় সেই চেষ্টা করেন উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ শহিদুল ইসলাম ও স্থানীয় দুই ইউপি চেয়ারম্যান।

উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, পাচু ভালো লোক ছিলো না। সে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। তার তিন সন্তান রয়েছে। কয়েকদিন আগে ধরা পড়ার পর তাকে গণপিটুনি দেয়। পরে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

তিনি বলেন, পাচু মারা যাওয়ায় তার পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে। তাই তার পরিবারকে একটু সহায়তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কত টাকা দেয়া হবে তা বলেননি তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মীমাংসার আড়ালে হত্যকারীদের রক্ষার চেষ্টা করার অভিযোগ সঠিক নয়।

তেরখাদা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ সলেকুজ্জামান বলেন, কেউ যদি বাদী হয়ে মামলা না দেয় তাহলে তাহলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে। তবে তার আগে তার ময়না তদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসতে হবে। তদন্তে যদি প্রমানিত হয় যে তাকে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে তাহলে হত্যা মামলা হবে।

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads





Loading...