জাপা-জামায়াত ও ইসলামী দলগুলোর ব্যাপক প্রস্তুতি

মানবকণ্ঠ
জাপা-জামায়াত ও ইসলামী দলগুলোর ব্যাপক প্রস্তুতি - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • ছলিম উল্লাহ মেজবাহ
  • ২১ নভেম্বর ২০১৯, ১১:১৮

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাশাপাশি জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলো ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। এ নিয়ে দলের অভ্যন্তরে দফায় দফায় বৈঠক করছেন নেতারা। কোনো সিটিতে ও কোনো ওয়ার্ডে কাকে প্রার্থী করা হবে তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে সামনে এগুচ্ছে। বড় দুই দলের পাশাপাশি জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলোও প্রস্তুতি নিয়ে এগুচ্ছে।

দলটির নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে উঠে এসেছে নির্বাচন প্রস্তুতির কথা।এদিকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন আগামী জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের এমন ঘোষনার পর দলগুলোর নেতারা ভেতরে ভেতরে বিরামহীনভাবে নির্বাচনী প্রস্তুতি চালাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আলমগীর হোসেন গত ৩ নভেম্বর বলেছিলেন চলতি মাসের ১৮ নভেম্বরের পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। তফসিল ঘোষণা না হলেও দলগুলোর নির্বাচনী প্রস্তুতি থেমে নেই। ক্লিনইমেজ যোগ্যপ্রার্থী এবং ধনাঢ্য ব্যক্তিদেরকে মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন জাতীয় পার্টি। দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর পার্টির শীর্ষ নেতারা দলকে দেশবাসির কাছে গ্রহণ যোগ্য করতে নিয়েছেন নানা উদ্যোগ। কয়েকটি উদ্যোগের মধ্যে হচ্ছে সিটি নির্বাচনে গ্রহন যোগ্য প্রার্থী দেয়া ও ওই প্রার্থীকে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করা।

জাপা নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। মিলন বিগত ডিসিসি নির্বাচনেও অংশ নিয়েছিলেন। তখন দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ঢাকা মহানগর দক্ষিণে জাপার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন পুরান ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দা। ঢাকা মহানগরীতে বিভিন্নস্থানে সারা বছরই বড় আকারের পোষ্টার লাগিয়ে ব্যাপক আলোচিত-সমালোচিত হোন তিনি। নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়ে হাজী মিলন বলেন, পার্টির নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী নির্বাচন করার জন্য আমাকে অনুরোধ করছে। তাদের আগ্রহের কারণেই আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছা রয়েছে। পার্টির চেয়ারম্যানসহ সিনিয়র নেতাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবো।

দক্ষিণে একজন প্রার্থীর নাম শুনা গেলেও উত্তরে একাধিক প্রার্থী জাপা থেকে মেয়র পদে নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তারা হলেন পার্টির যুগ্ম-মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয় ও সঙ্গীত শিল্পী সাফিন আহমেদ। উত্তরের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে সেন্টু ও জয়কে মাঠে দেখা গেলেও সাফিনকে পার্টির কোনো কর্মসুচি বা কর্মকান্ডে চোখে পড়ে না। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অনু্ষ্িঠত উত্তর সিটি মেয়র নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলেও আশানুরূপ ভোট পাননি তিনি। পার্টি থেকে অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী পার্টির যুগ্ম-মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয় বনানীর স্থানীয় বাসিন্দা। তরুণ এ ব্যবসায়ীর পার্টিতে রয়েছে ক্লিনইমেজ। পার্টির তরুন ও তৃনমুল নেতাকর্মীরা চাচ্ছে জয় উত্তর থেকে মেয়র নির্বাচন করুক। গত কয়েকমাসে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করান। এ বিষয়ে জয় বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে প্রয়াত পল্লীবন্ধু এরশাদের ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছে। পার্টিও ঐক্যবদ্ধ। দল যদি উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে শেষ পর্যন্ত আমি মাঠে থাকবো এবং ভোটের মাঠে লড়াই করে জাতীয় পার্টিকে আরো সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবো ইনশাল্লাহ।

এ প্রসঙ্গে পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, জনগনের পছন্দকে প্রাধান্য দেয়ার জন্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। আমরা সব নির্বাচনেই জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রার্থী দিতে চাই। আসন্ন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও জাতীয় পার্টি মেয়র ও প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করবে। তিনি বলেন, আমাদের দল সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামীতেও দেশ এবং জনগণের মঙ্গলের জন্য কাজ করে যাবো।

জাপার ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি বলেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচনীমুখী দল। বিভিন্ন প্রতিক‚ল অবস্থার মাঝেও নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে উত্তর ও দক্ষিনে আমাদের শক্তিশালী মেয়র প্রার্থী রয়েছে এবং একই সঙ্গে ঢাকা মহানগনরের প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করার জন্য একাধিক প্রার্থী ইতিমধ্যে প্রস্তুতি গ্রহন করেছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের ধর্মভিত্তিক দলগুলোও ভেতরে ভেতরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে তফসিল ঘোষণার আগেই মাঠে অবস্থান নিচ্ছেন। রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা ও নিবন্ধন বাতিল হওয়া জামায়াত ইসলামীও স্বতন্ত্র বা ২০ দলের ব্যানারে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনও নিজেদের প্রার্থী নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনে এখন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৩৯টি। এর মধ্যে ইসলামপন্থী দল ১০টি। এর মধ্যে ছয়টিই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ তরীকত ফেডারেশন (নজিবুল বশর) আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলে, আর ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ (বাহাদুর শাহ) মহাজোটের শরিক। বাকি চারটি দল ইসলামী ঐক্যজোট (নেজামী), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (হাবিবুর রহমান) ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মান্নান) ও জাকের পার্টির (মোস্তফা আমীর) সঙ্গে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সমঝোতা হয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটে আছে দুটি দল খেলাফত মজলিস (ইসহাক) ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (আবদুল মোমেন)। নিবন্ধিত বাকি দুটি ইসলামি দল ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত আন্দোলন (আতাউল্লাহ) স্বতন্ত্রভাবে ভোট করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অন্যদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মরহুম হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সম্মিলিত ইসলামী মহাজোট’ নামে একটি ৩৪-দলীয় মোর্চার সঙ্গে জোট করেন। কিন্তু তিনি একাদশ নির্বাচনে মোর্চা ছেড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে ভোট করার কারণে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (হাবিবুর রহমান) ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মান্নান), তাকে ত্যাগ করে চলে যায়। এ দুটি দল ছিল নিবিন্ধত। বাকি দলগুলো অপরিচিত ও নামসর্বস্ব। সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে এসব দলগুলোও মাঠে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার কাজ অব্যাহত রেখেছে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...