খুলনায় পেঁয়াজের দাম কমলেও গুজবে লবণ নেই বাজারে

মানবকণ্ঠ
ছবি - প্রতিবেদক।

poisha bazar

  • আলমগীর হান্নান, খুলনা ব্যুরো
  • ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:৫৩

খুলনায় পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করলেও মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে অপরিহার্য পণ্য লবনের দাম বেড়েছে কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা। দুপুরে প্রতি কেজি লবণ খুচরা বাজারে ৩৫ টাকা বিক্রি হলেও হঠাৎ গুজবে তা সন্ধ্যায় সোনার হরিণে পরিণত হয়। দাম বেড়ে দাড়ায় ৮০ টাকা কেজি। এই গুজবে সবচেয়ে বেশি কান দিয়েছেন গৃহিণীরা। সন্ধ্যায় খুলনার মুদি দোকানগুলোতে মহিলাদের লম্বা লাইন দেখা যায়।

এদিকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক প্রেসনোটে বলা হয়েছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল লবণের সংকট রয়েছে মর্মে গুজব ছড়িয়ে অধিক মুনাফা লাভের আশায় লবণের দাম অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এ ধরণের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

খুলনার বড় বাজার সূত্রে জানা যায়, পাইকাড়ি বাজারে লবনের কোন সংকট নেই। পেঁয়াজ তিনশত টাকা থেকে নেমে ১৬০ টাকায় (প্রতি কেজি) চলে এসেছে। বাজারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব সময় নজরদারীও করা হচ্ছে। কিন্তু কেনো লবনের দাম বাড়বে? বা এই গুজব কে বা কারা ছড়িয়েছে তা কেউ বলতে পারে না।

নগরীর জোড়াকল বাজারের মুদি দোকানী জয়নাল বলেন, বিকালে দোকান খোলার পরপরই হঠাৎ করেই গৃহিনীরা দোকানে এসে ৩/৪ কেজি করে লবন নিতে শুরু করেন। ক্রমে সেই ভিড় বাড়তে থাকে। যারা মাসে ২ কেজির বেশি লবণ নেন না, তারাও ৪ কেজি লবণ নিতে শুরু করেন। তবে তিনি কোন বাড়তি দাম নিচ্ছেন না বলেও জানান।

ওই এলাকার গৃহবধূ ফারজানা আফরোজ বলেন, বিকালে বাড়ির সামনে রাস্তায় বের হয়ে দেখি যে মহিলা যাচ্ছেন তার হাতেই কয়েক প্যাকেট লবণ রয়েছে। তারা বলছেন, লবণের দাম ১২০ টাকা হয়ে যাবে। তাদের কথা যাদের কানে যাচ্ছে তারাও ছুটছেন লবণ কেনার জন্য।

তবে আজ মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) খুলনার বড় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজের বাজার ক্রেতা শূন্য হয়ে পড়েছে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে ক্রেতা নেই বললেই চলে। দোকানে ও আড়তে পেঁয়াজও কম।

অনেকে বলছেন, ক্রেতার অভাবে মজুদ থাকা পেঁয়াজ কম দামেই বিক্রি করে দিচ্ছেন পাইকারী বিক্রেতারা। আবার বাজারে নতুন পেঁয়াজও উঠতে শুরু করেছে। নতুন পেঁয়াজ ভ্যানে করে খুচরা বিক্রেতারা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি করছেন।

শান্তিধামের মোড়ে ভ্যানে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা আব্দুল্লাহ বলেন, পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করে দিয়েছে। দেশি নতুন পেঁয়াজ বাজারে উঠেছে। দাম ১৬০ টাকা। ২/৫ দিনের মধ্যে দাম আরও কমবে।

নাসরিন নামের এক ক্রেতা বলেন, দুই দিন আগে পেঁয়াজ কিনেছি ৩০০ টাকায় কেজি। আজ ১৬০ টাকায় নতুন পেঁয়াজ পেয়ে ভীষণ খুশি লাগছে।

বাজারে আসতে শুরু করেছে নতুন পেঁয়াজ, এদিকে চড়া দামের কারণে ঘরে ঘরে কমেছে ব্যবহার- এই দুইয়ে মিলে পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছেড়ে নামতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

বড় বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দীক বলেন, নতুন পেঁয়াজ উঠার খবরে পুরাতন পেঁয়াজের দাম কমেছে। খুলনার পাইকারি বাজারে আগের দিনের তুলনায় পেঁয়াজের দাম কমেছে। দুই দিনের ব্যবধানে ৩০০ টাকার দেশি পেঁয়াজ দাম কমে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৬০ টাকা থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে।

এদিকে, পেঁয়াজ সহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হাতের নাগালে রাখতে খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শনিবার (১৬ নভেম্বর) অভিযান চালানো হয়। এ অভিযানও তদারকিতে পেঁয়াজের দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করেন সংশ্নিষ্টরা।

খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান বলেন, পেঁয়াজসহ নিত্য পণ্যের বাজার নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কোনো ব্যবসায়ী অযৌক্তিক দামে বিক্রি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শনিবার অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ বিক্রি করার অপরাধে নগরীর বড় বাজারের সোহেল ট্রেডার্সের মালিক তাহের পাটোয়ারীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। যা অসাধু ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে।

তিনি জানান, পেঁয়াজ সহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হাতের নাগালে রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। অসাধু ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...