ফতুল্লায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১৫

মানবকণ্ঠ

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৬:১৯

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রহিম হাজী ও সামেদ হাজী গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে পুলিশসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। সোমবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বক্তাবলীর আকবরনগর এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৭ রাউন্ড রাবার বুলেট ও এক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রহিম হাজী ও সামেদ আলীর স্ত্রীসহ ৭জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৩০টি টেঁটা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এলাকাবাসীরা জানান, ফতুল্লা ও সিরাজদীখান থানার পাশ্ববর্তী এলাকা বক্তাবলীর আকবরনগর এলাকা। এ এলাকার প্রভাবশালী দুই ব্যক্তি সামেদ আলী হাজী ও রহিম হাজী। আধিপত্য বিস্তার করতে তারা উভয়ে আলাদাভাবে বিশাল বাহিনী গড়ে তোলে। উভয় বাহিনীর লোকজন ইটভাটা হতে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্নভাবে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। এ নিয়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে প্রতিনিয়ত বিরোধ চলে আসছে। কেউ কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। সম্প্রতি দুই গ্রুপের সংঘর্ষে জয়নাল নামের একজনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে দেয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন নিরব থাকার পর সোমবার বিকেলে সামেদ আলী হাজী ও রহিম হাজী গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এসময় উভয়পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ টেঁটা ব্যবহার করে। সংবাদ পেয়ে ফতুল্লা থানার ওসি আসলাম হোসেনসহ অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৭ রাউন্ড গুলি ও এক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ আনুমানিক ১৫ জন আহত হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যরা হএন- আব্দুল কুদ্দুস, হাবিবুর রহমান ও রেজাউল হক আহত হয়। তাদেরকে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সামেদ আলী হাজী ও রহিম হাজী গ্রুপের বিরোধে টেঁটা বল্লম নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে জয়নাল নামের একজন নিহত হয়। জয়নাল হত্যার ঘটনায় সামেদ আলীসহ তার লোকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। আর এ হত্যাকাণ্ডের জের হিসাবে রহিম হাজীর লোকজন সামেদ আলীসহ তার লোকদের বাড়ি ঘর ভাঙচুর করে গুড়িয়ে দেয়। এতে করে সামেদ আলী হাজীর স্বপরিবারসহ তার সমর্থিত নারী পুরুষ সবাই এলাকা ছাড়া হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে বৈঠকের মাধ্যমে সমঝোতা করে দেওয়া হয়। কিন্তু তাদের বিরোধে সমঝোতা হয়নি। এবার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সামেদ আলী হাজী ও রহিম হাজী গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং কয়েকটি বাড়ি ঘর ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৭ রাউন্ড গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল হতে ২০টি টেঁটা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৭জনকে আটক করা হয়। বর্তমান এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আর এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/জেএস



poisha bazar

ads
ads